কাব্যগ্রন্থ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঝাউবন ও জ্যামিতি বাক্স , চিরশ্রী দেবনাথ

বইয়ের নাম


ঝাউবন এবং জ্যামিতি বাক্স


চিরশ্রী দেবনাথ



জ্যামিতি বাক্স

কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয় না বলে
কেমন সস্তা হয়ে যাচ্ছে বিকেলগুলো
যেন ধুলো ঢেকে দিয়েছে বিকেলের গাল
একটি রাস্তা না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে দুপুরে
আজ, কাল বা পড়শু বা আরো অনেকদিন
এ পথে যাবে না কেউ, তাই বুকজোড়া ঝোপ তার
কুবো পাখি দেখে এসেছে বারান্দায় কুয়াশার জুতো
যে দম্পতি হারিয়ে ফেলেছে পৌষের সকাল
তাদের মানিব্যাগে টুক করে ঢুকে যাবে বলে
ঘন আষাঢ়ের রামধনু স্নান সেরে বসে আছে



ছালমোচন

দুঃসহ সময়ে কবিতা থেকে উঠিয়ে নিলাম প্রতিবাদ,
আগুন থেকে যেমন সরে যাচ্ছে ক্রমাগত দহনের দাগ
প্রতিবাদ, দহন ছাড়া শুধু লেখা হোক প্রেমের কবিতা,
প্রেম কোন প্রতিবাদ নয়, রাজনৈতিক খুন কিংবা বক্তৃতা নয়
নিরবিচ্ছিন্ন রুগ্ন বসন্ত ছড়িয়ে...কবিতা লেখে প্রেমিকের হাত।
প্রেমের কবিতা খুব নিরাপদ,
অন্তরে ঘটতে দেওয়া অপরাধের মতো
তাই হোক, কেমন শব হয়ে গেছি সব
স্বেচ্ছাচারী কবি একটি বাকলহীন প্রেম লিখো,
সতৃষিত ধর্ষণের পংক্তি,
এ সবকিছুই খুব নিবিড়, নিরাপদ, গোপন, প্রতিবাদ।




অন্নদাতা

অনশন চলছে, কৃষকদের,
আদিগন্ত মাঠ পেতে তারা বসেছে
জল খাচ্ছে না, শস্যদানা খাচ্ছে না
যেন পৃথিবীর পাখি তারা, সন্ধ্যার আগে নীর ছোঁ মেরে নিয়েছে কেউ
তাদের এখন ধর্মঘট, বীজ বুনবে না, ট্রাক্টর চালাবে না, ভোরের কুয়াশা মেখে মাঠে আসবে না
হে শক্তিমান, তুমি কি হেনেছো সেই কুঠার
করো না এমন, করো না এমন
দেখো কেমন মায়া ভরে
পৃথিবী তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে সূর্যাস্তের মদিরা, সভ্যতার অনীহা ...




গোলাপি মুক্তো

আমার সবকিছু ব্যক্তিগত
যেমন একটি গ্রাম, শহর ও মহানগরী একান্ত
গ্রামের দেহাতি, রূঢ় যুবকটি আমার ভেতর
সে শহর দেখতে চায় না, কথা বলে না, জেদের পাহাড় তার ভেতরে
শহুরে যুবকটিও আমার, শুধু নির্জনে দরজা বন্ধ করতে জানে
মহানগরীতে পৌঁছুতে পৌঁছুতে দেহাতি যুবক বদলে গেছে
কাঠের বাক্সে তার কাছে এখন গোলাপি মুক্তো,
যত্ন করে পাঠিয়েছে আমাকে
মিথ্যে শেখার পর থেকে সে একদম  নির্ভুল
ধানক্ষেতে ছড়িয়ে দিয়েছি মধ্য জোয়ারে আহৃত সেই গোলাপি সমুদ্রবীর্য


আমার কাছ থেকে সমুদ্র অনেক দূরে
তাই আগে মুক্তো চাষ করি, তারপর জল, তারপর ঢেউ, তারপর গর্জন, আস্তে আস্তে গোটা সমুদ্র 




 ঝাড়লন্ঠনের ছায়া 

আজকে বোধহয় আর লেখা হবে না
বড়ো মগ্নতা এসে গেলো, মনে হলো ভাবি একটু
এই ভাবনাগুলোকে রাজপ্রাসাদে রাখি তো !
সেখানে শুধু ঝাড়লন্ঠন আর  টানা পাখা...
পাখা আলো সরিয়ে দেয়, আলো বাতাসকে, কেমন বৈরীভাব দুজনে
আর তখন সব শোনা যায়
শিশিরপতনের শব্দ,কচুপাতায় নক্ষত্রের রঙ জমা হওয়ার শব্দ
আশ্চর্য গাছেরাও এতো জোরে কথা বলে জানতাম না
রাতের বেলা আকাশ যে আস্তে  আস্তে পৃথিবীর বুকে নেমে আসে, অন্ধ না হলে দেখা যায় না
সব সুর, সব কবিতার জন্য অন্ধ হয়ে যেতে হয়,
বাউলের একতারার কাছে হিংসে রেখে আসতে হয় ...






উদাসীন মাল্যগ্রন্থি


আজ এসেছি মুগ্ধ হতে, রঙ চটে নির্জন হয়েছে কিছু,
বাকি সব উদ্ভাস
কোথাও জমেছে পাথর আদর জমে জমে, শ্যাওলার মখমল
রাস্তা শেষে আঘাতেরা মেলেছে ডানা
সিন্দবাদের সমুদ্রদ্বীপে তারাই রূপপাখি
এখন গুটানো হাত, নিমগ্ন পা ঈশ্বরের কাছে
তবুও পেতেছি হাত, যা কিছু দিলাম অবিশ্বাস, অবিরত সংঘাত
কোনটাই স্বাধীনতাকামী যুদ্ধ ছিল না
ভেবে গেছো অপ্রেম, নির্বোধ এ জমি
জেনেছ হয়তো বুদ্ধের মতো নির্বান অস্তরাগ, ক্ষীণ পাকদন্ডী, দেয়ালে তারিখমালা, অশুদ্ধ তিথি
যদি এখন ফেরত দিতে বলি সমস্ত অগম্য গ্রহণ, খোলা জানলা, কিছু ব্যক্তিগত মাল্যগ্রন্থি
কী অসম্ভব দুর্বার হবে সেইসব রঙীন ফেলে আসা গেঁজে যাওয়া  ফেনা !



সোনার চুড়ি


ভালো হবো, ভালো হবো খুব!
এই খুলে ফেললাম দুর্বিনীত জিহ্বা, শ্লেষ শব্দ অস্ফুট
খরা তো ছিলো না কখনো, কী সে মরল কে জানে
এই কি সেই মসৃণ সেগুন, শিকড় ছড়াতে জানে না ভালো করে
এমনি সহজ, ভয়াবহ সরল
হঠাৎ বিদ্যুতচমকে খুঁজেছে মেঘের উৎস, হেমন্তে ও বাকি ঋতুতে
অবিরাম বক্ষ পেয়েছে সে, ঝরেছে প্রথমের মতো 







সূচকাঙ্ক

আজই তাদের দেখাদেখির শেষদিন,
তারপর মেয়েটি বিদেশ যাবে বরের সঙ্গে।
ঐ যেখানে মিসিসিপি বয়ে চলে, এলোমেলো উদ্বাস্তু ছাতা।

তাই সে ফিরিয়ে দিতে এসেছে সমস্ত মেসেজ, প্রাণপণে ডিলিট করছে ভাগ করা কথোপকথন ।

এক জোড়া চোখ সামনে। নির্বাক।

দীর্ঘ শুভেচ্ছাবার্তার লাল হলুদ রঙগুলো দ্রুত মরে যাচ্ছে।
উড়িয়ে দাও সব, এসমস্ত দিনরাত, বিহঙ্গের ছটফটানি।

এখন দ্বীপান্তর হবে। 

সঘন নির্বাসন। স্ব ইচ্ছায়। যুদ্ধে মন নেই।
ছেলেটির কিন্তু খুব যুদ্ধ করতে ইচ্ছে করছে।
যেন সে অর্জুন। গাণ্ডিবে এখনি দেবে টান।


আসলে এসব কিছুই হচ্ছে না, শুধু মেয়েটি চলে যাচ্ছে।
আর দিকচক্রবাল জুড়ে হেরে যাচ্ছে তৃৃতীয় বিশ্ব ...



ডাকটিকিটের মেয়ে


এখন কিছু কাগজ আসে নিজের নামে
একটি ঠিকানা রয়েছে যেন কোথাও আম্রপল্লবের স্বস্তিকাচিহ্নরচিত
আমার মার একটি বাড়ি ছিল, নিজেদের ঘাম রক্তে ঘেরা।
সেখানে বাবার নামে অজস্র চিঠি আসতো, বই পত্র ইত্যাদি।
মার নামে তেমন কিছু চিঠি আসেনি কোনোদিন, কিন্তু বাড়িটি প্রবলভাবে মাকে ঘিরেই হয়ে উঠেছিল।
এই যে, আজকাল কিছু পত্রিকা, বই ডাক যোগাযোগ !
এটাই বোধহয় সামান্য অতিক্রম করা মাকে,
বাড়ি, অস্তিত্ব বা কিছুই হয়তো ঠিকঠাক নেই, তবুও,খামের ওপর এইসব অদেখা জায়গাগুলোর নাম পড়ে পড়ে শুধু মনে হয়
অক্ষরগুলো নৌকার মত, মৃদুমন্দ বাতাসে তাদের বিবাহ দিয়েছি দূরদেশে,
পরিচয় আর ঠিকানা নিয়ে মায়ের হৃদয়ে ফিরে এসেছে সুখি মুখ দেখাতে।




বলপ্রিন্টের ঘর

তাদের বাজারে চড়া ঋণ
বাকি পড়ে আছে স্কুল ফি, দোকানের খরচ,
জমে আছে বেঁচে থাকার জন্য না কেনা ঔষধের প্রেসক্রিপশন ।
সবাই আজ বিকেলে মরে যাবে ঠিক করেছে
কেউ তাই ছাদ থেকে কাপড় আনছে না, বিকেলের ট্রেনের হুইশেল শুনছে না,
কাঁদছে, নিস্তব্ধ হয়ে কাঁদছে।
ছোট্ট মেয়েটি হঠাৎ দরজা খুলে দিলো
ওমনি ঝাঁক বেঁধে ঘরে ঢুকে গেলো একদল গৃহগামী পাখি
আজ রাতে তারা এখানেই থাকবে
সুতরাং রাঁধতে হলো, খেতে হলো, রাতের বাহুতে দীর্ঘায়ত হচ্ছে প্রহরকাল,
এই নিবিড় রসিকতা চলতে থাকুক। 







সমুদ্র গৃহ

একজন বড়লোকের মেয়ে একজন গরিবের ছেলেকে ভালোবাসলো
তারপর গাছে গাছে ফুল ও ফল
একটি নিবিষ্ট বৈশাখে রেজিষ্টিও সমাপ্ত
আকাশ থেকে আসন্ন বর্ষার আরক্ত জলধারা তাদের ভিজিয়ে দিলো খোলা রাস্তায়

মেয়েটি ছেলেটির বাড়ি এলো
তিনখানা ঘর, খোলা বারান্দা,
একটি লেবু গাছ ও পাশের বাড়ির কাঠগোলাপ গাছের ফুলে ছাওয়া অবাধ্য ডাল
সবকিছু মিলিয়ে মেয়েটি অপেক্ষা করতে লাগলো নির্জনতার
অবশেষে রাত,মাঝখানের ঘর, তিনখানা দরজা, সারা রাত অন্যদের আসা যাওয়া।
রাগ, চলতে থাকা অভিমান !

গরিব ছেলেটি হয়তো এই দুরন্ত সমস্যাটির আশু সমাধান নিশ্চয়ই করবে
কিন্তু খুব দেরি হওয়ার আগে
এইসব ভালোবাসা প্রবণ দম্পতিরা
পৃথিবীর কাছ থেকে কি একটি নির্জন সমুদ্রগৃহ উপহার পেতে পারে না !! 





সংলাপ ...ঝাউবন ও ধুনকর


তোমার বুঝি চার পাহাড় অভিমান হয়েছে !

আমি খবর দিয়েছি ধুনকরকে, খবর দিয়েছি তাঁতিকে

খবর পাঠালাম রঙিন ধুলোর কারিগরকে ...


কি হবে তাতে?


নিদাগ হবে, ধূসরিত হবে, তুলোর ফেঁসো জড়াবে নাকে মুখে,

মোটা কাপড় পরে কুড়িয়ে আনবে লম্বা মিছিল


তাতে কি অভিমান কমবে?


তাতে অভিমান লজ্জা পাবে, ডোরাকাটা দাগ, গর্জন শুনে মনে হবে সুখী মাওবাদি।


আমি তখন গুহা কিনতে বেরোব। তোমার হাতে গর্জন গাছের ডাল, মেঘ আটকে রেখেছো। দাঁড়িয়ে আছো পেছন ফিরে।

গুমগুম পাহাড় ভাঙছে, দিনদুপুরে... শুনতে পাচ্ছো? পাচ্ছো কি?


এসেছো তাহলে !


তবে  শোনো ..., কিছু ঝাউগাছ আর দু তিন টুকরো বেলাভূমিও এনো  সঙ্গে , বারান্দা সাজাবো আমি 







দস্যুরোগ

যে পথে চলে গিয়েছ সে পথে এখন নদী, দিক বদলে এসেছে
জটায়ূর আহত পাখা থেকে কুড়িয়ে এনেছি যুগ্ম আভরণ,
অভিমান আর অভিমানে লেখা
চা গ্রাম গুলোর ভোর জুড়ে আজও এই ভরা অন্নকুট উৎসবে, ক্ষুধা নামে
পচা ভাতের সোমরস গিলে গিলে বনমালীর দল সমূহ কুটিরে ঢেলে দেয় রাতজাগা নক্সা ,
তাদের কাছেই দিতে হলো ধান্যপল্লবে লেখা একটি মাত্র পংক্তি, " আমি যে নত হয়েছিলাম ", 


সে থেকে ডানা ভিজে ভিজে ওঠে , গায়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘরকুনো শ্যাওলা, কচি বেড়ালশিশুর ভয়লাগা স্বর
লিখে  রাখি সব ... বিকেল করে আসা গৃহরোদে
একা একা পড়ি, বৈশাখমাস জাগে নিভৃত প্রদেশে
ঘেমে ঘেমে রক্তচন্দনের দস্যুরোগ বাঁধাই,
এ সুখদান, এ দুঃখদান, এ ভরা কলস দিয়েছো বলে আমি পথচারিণী …






উন্মোচন

পাগল দম্পতি দেখেছি, যুগ্ম নক্ষত্র , সহাস্য পঞ্চাশ
একটি ছেলেও আছে, সুস্থ, সুন্দর শালতরু
কী বিশুদ্ধ মিলনে জন্ম হয়েছিল তার, কত প্রবল ভালোবাসাবাসিতে
আগুনের ঘরবাড়ি, ভেতরে গুহা, নদী, অন্ধকার,
ধরেছে হাত, জ্বলেছে মনের গহন
অথচ মস্তিস্কে জট, খাদের গভীর, নেমেছে কুয়াশা, সূর্যের আলো দিকচিহ্ন হীন
এই সময়ে রোপিত বীজ, পত্রপুষ্প দিয়েছে ঢেলে কোন্ শ্বেতপ্রপাত ?





লেখক পরিচিতি

চিরশ্রী দেবনাথের জন্ম ত্রিপুরার কৈলাসহরে , ১৯৭৯ এর ১২ ফেব্রুয়ারী। বাবা রাধাগোবিন্দ মজুমদার, মা মায়ারাণী মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শুরু বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হন। তার লেখা ত্রিপুরা ছাড়াও আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত লিখেন। কবিতা আত্মার সঙ্গে মিশে গেলে আর ফেরা যায় না, এটাই বিশ্বাস করেন।


প্রকাশিত অন্যান্য কাব্য গ্রন্থ: জলবিকেলে মেঘের ছায়া, ঋতুক্ষরণের রোদ চশমায়, প্রেমেসন্ত্রাসে, শুভ দ্বিপ্রহর ইত্যাদি


বিশ্বাসের কাছে নতজানু, চিরশ্রী দেবনাথ

বইের নাম 


বিশ্বাসের কাছে নতজানু


ভূমিকা




সময়টি  মাংসকালের। নির্মোহ মাংসাশী গ্রাম ও শহর।  অপরাহ্নের নিমন্ত্রনে ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে রাত, দিন, ধর্ম, ধ্বজা, পতাকা ও যোনি। অন্ধদের থালা বাটি গ্লাস ভরে উঠছে ভরপেট নৈবেদ্যে। যেদিন হেমন্তসময় প্রবাহিত হবে, মাঠের পাশে বসে থাকব আমরা  সার বেঁধে,   ... মাংসের কথা, পেটভরার কথা, শরীরসুখের কথা বলতে এতো অক্ষর লাগাও কেনো হে, 

কসাইের কাছে রক্ত জলের মতো, কৃষকের কাছে কাদা তো  মুঠ মুঠ পরমান্ন, আমাদের এই বোকা এবং অশ্লীল চেয়ে থাকা  পৃথিবীর আঁচে নিজস্ব  দহন জ্বালাবার  জন্য ...




 


চিরশ্রী দেবনাথ 




প্রিয় দোয়েল পাখি 


 বার বার পাসওয়ার্ড ভুলে যাই সবকিছুর

 কত জায়গায় লিখে লিখে রাখি তাদের, 

তারপর লিখে রাখা জায়গা গুলোও হারিয়ে যায়

গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিজ্ঞেস করলে, 

দোয়েল পাখির নাম মনে করার চেষ্টা করি, 

কালই দেখেছি পাখিটিকে, দিনের শেষে কথা হয়েছিল

তাদের বাসাও আজ নিলামে উঠেছে, 

কিচির মিচির আর উড়ান নিয়ে চলে যেতে চাইছে আশ্বিনের গ্রহ



যৌনতা নয়   

কোথাও খুব চিৎকার, যুক্তি তর্ক হলে

আমি সরে আসি, খুব বোগাস কোন সিনেমা দেখি

দেখি নায়িকার ব্লাউজ খুলছে নায়ক

কাছেই হয়তো ছিল ক্যামেরা  ম্যান 

মোট কতজন লোক দেখছিল সেই ব্লাউজ খোলার দৃশ্য,  আসলে আমি সহ তা পেরিয়ে গেছে হয়তো কয়েক লক্ষ    

এনামেলের হাঁড়িতে ভাত ফুটছে, 

কোথাও এভাবেই খুলে যাচ্ছে রাতপোশাক বুদ্ধের ভঙ্গিতে, 

তুমি যা ভাবছো, তা কিন্তু  নয়, 

হয়তো সব মিলিয়ে পৃথিবীতে এখন গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে

ছেলেরা বাড়ি ফিরতে ফিরতে কিশোরীদের ঢেকে দিচ্ছে হৃদয় উপচানো রোদে

এতো স্বাভাবিক সবকিছু, যেন কোথাও কোন জন্ম নেই, শুধু বেঁচে থাকছে পুরনো মানুষেরা




কৃষিজমিন 


যে তরুণীর গোড়ালি খুব লাল আর মসৃণ, তার সঙ্গেই  বিয়ে হবে রাজার, 

প্রচারিত হয়েছিল রাজপথে ও গ্রামে গ্রামে। 

পিতা নিজের রক্ত দিয়ে মুছে দিয়েছিলেন মেয়ের গোড়ালি, 

মুখ ঢাকা মেয়েরা বসেছিল সারি সারি... গোড়ালি দেখিয়ে ।     

রাজা এলেন।  ধুলোমাখা, ঘাস লেগে থাকা এক মেয়েকে নিলেন ঘোড়ার পিঠে তুলে,

 সবাই সোজা উঠে দাঁড়ালো, মানে গোলাপি গোড়ালির  মেয়েরা !  

কি হলো এটা? 

রাজা কৃষকের মেয়েকে নিলেন ঘোড়ার পিঠে ! ছিঃ ছিঃ! 

 যদিও গল্প, তাও রূপকথার। 

তবু মনে হয়, আমাদের ছেলেরাও একদিন তুলে নিয়ে যাবে সব ফাটা গোড়ালির মেয়েদের,

আচ্ছন্ন শীতে সেই মেয়েরা বিবাহ তুলে দেবে ছেলেদের হাতে। 




ব্ল্যাকবোর্ড 


অবশেষে বর্ম খুলে ফেলেছিলাম

একেই বলে আকুল হওয়া, হয়তো ভরা কদম, চূর্ণ হওয়া, 

ফিরে আসতে গিয়ে দেখি... পারি না

শীতের রোদ সারসের মতো পা ফেলে ফেলে খুৃঁজে নিচ্ছে সন্ধিস্থল, 

বরফ পড়েছে সর্বত্র। হলুদ ঘাসেরা নিচে, উটের মতো বোরিং চাহনি বিকেলের। 

ছাত্রদের মুখগুলো দেখি।

একদিন বললাম, শোনো এই হলো " বিশ্বায়ন  "। 

"জেনে কী লাভ অর্থনীতি ! আমরা তো ব্যবসা করবো ম্যাডাম ",

কিছু ট্যাক্স ফাঁকি, কিছু জবানবন্দি মিথ্যা, ওতে কিছু হয় না।  

ওতে কিছু হয় না ! বলো কি? 

হঠাৎ কেউ চলে গেলে সত্যিই কি কিছু হয় না !  

 লেখা হচ্ছিল না, তিনদিন।

ভাবলাম তবে শেষ, মনে হলো আমার পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ। সন্ন্যাসীর পোশাক, নির্বিকার।

দূর থেকে দেখেছিলাম কোনোদিন নীলাচল, ঠান্ডার ঝাপট।

শিরশির করছিল দাঁত, নখ, সাদা কার্ডিগান।

 বাইরে ছেয়ে আছে কাশ্মীরি শালের মতো ওম দেওয়া আড্ডা,

তারা কি নেবে আমাকে?  দু এক দানা আগুন জ্বলতে শুরু করেছে, 

আমি কি যাবো আসলে?

আসলে কি আমি যেতে চাই?

আমি কি কোন আড্ডার কথা তোমাকে ছাড়া ভাবতে পেরেছি?

তুমি কখনো ছিলে আমার সেসব ব্যক্তিগত, বোকা আড্ডায়? 

যেখানে মেধা পুড়েনি, ক্লাসিক্যালের সুর আসেনি? 

দৈনিক সংবাদ অযথা বকবক করে গেছে, 

রেগার টাকা, শীতের কম্বল, ধর্ষণ,  বি পি এল কার্ড, পেঁয়াজের দাম ইত্যাদি, ইত্যাদি।

টিভিতে ধীরে ধীরে পনেরহাজার কৃষকের মৃত্যু, কী অসাধারণ বিশ্লেষণ।

শুনেছি।

শুনিনি। 

আসলে কারো সঙ্গেই আমি কখনো ছিলাম না। 

একা একা।  অবাধ্য।  হিম জমা করাই আমার কাজ, উষ্ণতার দিনগুলোতেও কখনো বা সবসময়।  




একান্তে


একজন কবি ২০১৯ এর

ফেসবুকে নেই, একা গাছ... হেমন্তের

সমস্ত পাতা জড়ো করে রেখেছে বুকে

ঝরতে দেবে না, দেবে না কোনদিন

ঝরে গেলে, পুড়ে যায়

এভাবে নিজেকে কত পোড়াবে গাছ?

সে কিছু রাখেনি নিজের জন্য 

বই , মাইক , মঞ্চ , এমন কী  হাহাকার 

শুধু পাতা আঁকড়ে শীত সহ্য করে, 

নিঝুম রাতে জ্যোৎস্নার আরতি তাকে তান্ত্রিক করেছে ...



গজল    


কেউ অন্যকিছু লিখে দিতে বললে

আমি শুধু বলি, প্লিজ কবিতা ছাড়া কিছু লিখছি না,    

দেখাও কোথায় কবিতা


চোখ বন্ধ করি, মিথ্যে কল্পনা করছিলাম , সবল পংক্তিগুচ্ছ নেই

ধুলো মাটি আলতো মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছি  


ভালোবাসায় ছিলাম বলে কিছু লেখা হয়নি, লেখা যায়নি


সময় লাগবে, অনেক সময়, এই বিজন স্রোত বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে একা, কেন যে জানি না 




নীল স্পর্শক 


আমার  সমস্ত না পাওয়া, তিন চারটে ফোঁস ফোঁস, 

হরতাল, একা রাস্তা, ছেড়ে যাওয়া হাত

চিলের মতো গর্বিত ডানা তাদের

আগলে রাখে সবসময় ধূসরতার নিচে

মনে হয় পালাচ্ছো, মনে হয় ভুলে গেছো

আসলে শীতকাল আমার সব যাওয়া আসার ডাইরি,

লিখতে লিখতে নিজে থেকেই মুছে যায় লাইনগুলো

যদি দেখে ফেলে জলন্ত দেশ, প্রতিবাদী জনতা, অথবা স্বার্থপর আমাকে। 



হলুদ রঙের ঝুমঝুমি 


নতুন কিছু,লেখা হয়নি অনেকদিন

মনে হয় হয়তো পাড়া থেকে হারিয়ে গেছে সমস্ত কিশোর আর তাই আমিও হারিয়ে ফেলেছি রাধাভাব

সীমান্ত থেকে শহিদ হওয়ার খবর আসে ...ভালোবাসার দিনে

কিন্তু যে সংবাদ কোথাও পড়া হয়নি, তা হলো 

বসন্তে জন্ম নেওয়া সেদিনের সমস্ত পাখির দল বোবা ও জন্মান্ধ 

তাই খুব তাড়াতাড়ি  গ্রীষ্মকালীন নিস্তব্ধতা সমাগত,

 এই পলাশ, শিমুলের দিনে, ক্ষীণ মাঘিপূর্নিমায় 

 কয়েকটি বিষাদময় পর্বতশিখর,  বৃক্ষরাজি এখনও  মাথা নত করে আছে  

কিন্তু এতো মৃত্যু আর প্রতিবন্ধী সংবাদের  পরও

আমি রাতের বেলা মাংস কষিয়েছিলাম

পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ছেঁচা গন্ধ, মাংসের গা থেকে চুঁইয়ে পড়া সর্ষে তেলে গমগম করছিল ভেতর

হৃদয়েও জব্বর  গোলাগুলি হয়, আর ডি এক্স বি়স্ফোরণ যখন তখন

এইসব শব্দ শুনতে পায় আমার প্রয়াত মা বাবা 

মৃত্যুর পর তাঁরা নিষ্ঠুর হয়ে গেছে, আদর করে না

অথচ আমি রোজদিন কিশোরী হয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে

মনে হয়, আমার বয়ঃসন্ধিতে দাঁড়াবে এখন নতুন কেউ 

তার মুখে বিকেল ঘনিয়ে আসা জঙ্গলের নির্জন ছায়া  

মনে হয়, আমি  সেই পৃথিবীতে শ্বাস নিচ্ছি, যেখানে কোনোদিন যুদ্ধ হয়নি 

তারপর  আরো ছোট হবো, আমার হাতে ঝুমঝুমি ধরিয়ে দেবে কেউ,  রাজারাণীর গল্প শুনতে চাইবো

তখন সবাই বুঝে যাবে, যাক একে নিয়ে আর ভয় নেই ! 




বিশ্বাসের কাছে নতজানু


এখন রাত নেমে আসছে খুব সাধারণভাবে 

ঠিক যেমন ঈদের রাতে মুসলমানের বারান্দায় বেড়াতে আসে চাঁদ

ঠিক যেমন আমি হালকা করে বললাম

 'এসো '

অথচ কাকে বললাম আসতে জানি না ঠিক

সে হতে পারে  'চাঙ্গা অর্থনীতি ' কিংবা 'জাতীয় সংহতি'


আজকাল আমি প্রায়ই চুপচাপ করজোড়ে বলতে থাকি


"এসো এসো এসো "


বিশ্বাস করি তখন কিছু আসে, 


সে হতে পারে মরুভূমি অরণ্য হয়ে যাওয়ার খবর অথবা ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠা দুজন মানুষ ...




বৈভব


সত্যি বলো তো কি চেয়েছিলে ,

ডানা গুটিয়ে এনে অস্থায়ী কোন আশ্রয়? 

চুম্বন? 

ভালোবাসা?

একসঙ্গে কিছু কাল কথা বিনিময়?

আসলে কি সে সুখ?

জানো না !

আমি জানতাম।

আমি জানি মফস্বল শহরে কোথাও প্রবল স্নেহে শেষবিকেলে রান্না হয়,

 তখন একমুঠো সুখ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ সে বাড়িতে ঢুকে পড়ে  ...












কৃষ্ণা


সব তোলপাড় হয়ে গেলে, 

 মানুষ কী করে নিজেকে গুছিয়ে নেয় আবার? 

জানা আছে তো নিশ্চয়ই কোন বিধ্বস্ত মানুষের?


তার কাছে যেতে চাই

হয়তো লোকটির মাথার চুলগুলো ধূপগাছের মতো জ্বলছে গ্রীষ্মের দুপুরে, 

ওর চোখ জ্বালা করা, বুকে মোচর দেওয়া, গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠা শক্ত ডেলা

সবকিছুই কি সে আমার মতো গিলে ফেলে

তার ছোট্ট মেয়ে কী তাকেও জিজ্ঞেস করে, 

তোমাকে কোনদিন কাঁদতে দেখিনি কেন?

আকাশে অনেক মেঘ, ছাতা নিয়ে যাও, 

বলতে বলতে আমি সবকিছুর  অনুবাদ করি

রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকেই শেখা এসব ফাঁকিবাজি। 



বড়দিন  


ধানসিড়ি নদীটি, সে জীবনানন্দের নয়, নাগাকন্যা, 

 পাহাড়ি বাঁক, লাইসাং থেকে চোখ  মেরেছে  ব্রহ্মপুত্রের  দিকে

দুপাশে  তরুণী হাত, অভয়া অরণ্য জাপটে আছে,  

তুমুল ক্যাটলিয়ার সমারোহ, 

রঙে রঙে খুন হয়ে গেছে ধানসিড়ির জল, ঘোলা জলে ডুবে গেছে ফুলের ছায়া

নদীপ্রবাহের পাশে কাঠ চেরাইের মিল, জলে গাছের শব    

পঁচিশে ডিসেম্বরের সপ্তাহে তিনটে স্টার সারারাত ধরে জ্বলতে থাকে  

শুয়োরের মাংস, কোয়াস সেদ্ধ, নাগা মরিচের ঝালে

বনের জিহ্বায়  স্বাদ ফিরে আসুক, বীজমন্ত, উর্বরা বৃক্ষমেয়ে...

প্রসব ক্ষমতা অনন্ত হোক তাদের, 

যীশুর কাছে বহতা নদীর আর কিছু চাওয়ার নেই, শুধু এই, এইমাত্র ...




( ধানসিড়ি, ভারতের নাগাল্যান্ডের একটি নদী, লাইসাং তার উৎপত্তিস্থল, ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে)  






বীতশোক


উদ্বৃত্ত তো হয়েছি কবেই

তাই চারপাশ থেকে অহংকার কুড়িয়ে এনে বালির পাহাড় বানিয়ে রাখি

সম্মান কমে গেলে যেমন ডেকে ডেকে উত্তরীয় দেখাই


কিন্তু ভালোবাসা সরে গেলে 

মানুষ শিল্পী হতে পারে অনায়াসে 


চলে যেও তুমি তাই নির্বিকারে,

 পাঁচটা বাজতে আর কত বাকি?



ভেন্টিলেটার দিয়ে ঢুকে পড়ছে একান্ত চোরাআলোগলি ! 


ধুলো ঝারার সময় কই,  ম্যাগাজিন থেকে পুরনো কবিদের কবিতা পড়ি 

আশ্চর্য দেখি তারা চেনা যুবকের মতোই, স্পর্ধা আছে, কাম, ক্রোধ সবই 

গভীর  হতাশার কথা রবিবার সকালে  লিখতে লিখতে, 

তারাও লিখেছেন বীতশ্রদ্ধ পৃথিবীবাসের লঘু দুঃখ, বিষাদ ইত্যাদি ইত্যাদি।




বেহালাবাদক 

...................

তাহলে মাঝখান থেকে শুরু করি

রোজা ভেঙে গেলে যেমন বরবাদ মনে হয় দিন 

ধর্মগ্রন্থ পড়া হয় না, অনেকেরই আজকাল

শুধু তার গন্ধটুকু নেয়, কখনো ধূপ, কখনো আতর

ছায়ায় ছায়ায় মারাত্মক যুদ্ধ

হিন্দুস্থান জিতে যাচ্ছে, আসমুদ্র হিমাচল গর্জমান...নতজানু

কী করে যেন বহতা নদী দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে বানানো গল্প,

অন্ধত্বের অক্ষর সুনির্বাচিত। 

 বসন্ত মরসুমে, 

কবিতায় প্রতিবাদ হারিয়ে গেলে, জেগে ওঠো শ্লোগান

শ্লোগান হারিয়ে গেলে, আগুনের কাছে জখম নাও 

তারপর বাকি থাকে চিৎকার, রুচিহীন চিৎকার ...

তবে কি তাই হবে আগুনওয়ালা, বাঁশীওয়ালা ?

... ও বেহালাবাদক বলো না? 











 



লেখক পরিচিতি


.... চিরশ্রী দেবনাথের, জন্ম1979 এর 12 ফেব্রুয়ারি উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাসহর নামের একটি ছোট শহরে। বাবা রাধাগোবিন্দ মজুমদার সংস্কৃতের অধ্যাপক ছিলেন এবং মা মায়ারাণী মজুমদার।  দুজনেই প্রয়াত।  তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্হান অধিকার করেন। ছোটবেলা থেকেই লিখতে ভালবাসেন, ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি।  বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে ও দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লিখেন। পেয়েছেন ত্রিপুরা সরকারের অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছোট গল্প প্রথম পুরস্কার, স্রোত সাহিত্য প্রকাশনার ছোটগল্প পুরস্কার, ত্রিপুরা সরকার তথ্য আয়োগ দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত প্রবন্ধ  প্রতিযোগিতায় প্রথম  পুরস্কার। তার লেখা  অনুগল্প, "আনন্দবাজার স্কুলে "তে প্রকাশিত হয়েছে। এখনো কোন গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়নি। ছয়টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। যথাক্রমে, "জলবিকেলে মেঘের ছায়া ", "ঋতুক্ষরণের রোদচশমায় ", "প্রেমে সন্ত্রাসে ",  "শুভ দ্বিপ্রহর ", "ঝাউবন ও জ্যামিতি বাক্স "    "উড়িয়ে দিও "। একটি গল্প সংকলন, "মায়ারাণী "।

২০১৯ এ, সুমিত্রা কর তরুণ লেখক সম্মান পেয়েছেন। 

 'কীর্ণকাল' নামে একটি লিটিল ম্যাগাজিন যৌথভাবে সম্পাদনা করছেন চার বছর ধরে। 

কবিতা ভালবাসেন তাই লিখে যেতে চান। কবিতায় নিজের কথা, মেয়েদের কথা বলতে ভালবাসেন।