ইরানের কবিতা, যুদ্ধক্ষেত্রে বেহালার সুর , চিরশ্রী দেবনাথ
ইরানের কবিতা যুদ্ধক্ষেত্রে বেহালার সুর
চিরশ্রী দেবনাথ
ইরান কবিতার দেশ। পৃথিবীর এক মহাশক্তিধর এই চলতি মাসেই বলেছিলেন তিনি ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেবেন। সমস্ত বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল সেই কথা শুনে । উন্নত সভ্যতার বিশ্বে
কেউ একথা বলতে পারে যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না। খনিজ আর জল নিয়ে মানুষ যতদিন থাকবে ততদিন যুদ্ধ হবে তাই বলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিলে প্রতিপক্ষ যে বাড়তি সুবিধা পায় তা নিশ্চয়ই সবার বুঝতে পারা উচিত।
একটি বহুল প্রচলিত কথা আছে—যদি সমগ্র পারস্য সাহিত্য বাতাসের বালির মতো বিলীন হয়ে যায়, আর আপনার কাছে যদি সাদীর ‘গুলিস্তাঁ’ (১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে লেখা) থাকে, তবে আপনি হারানো সবকিছু আবার নতুন করে তৈরি করতে পারবেন।
"মাটির নিচে অনেক বিখ্যাত মানুষ সমাহিত হয়েছেন
যাদের অস্তিত্বের কোনো চিহ্ন পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই।
সেই পুরনো মৃতদেহ, যা মাটির কাছে সমর্পণ করা হয়েছিল,
মাটি তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে একটি হাড়ও অবশিষ্ট নেই।
নওশিরওয়ানের গৌরবময় নাম আজও সম্মানের সাথে বেঁচে আছে,
যদিও তিনি চলে গেছেন বহু কাল আগে।
হে মানুষ, ভালো কাজ করো এবং জীবনকে সৌভাগ্য হিসেবে গণ্য করো।
কারণ একবার বিদায়ের সুর বেজে উঠলে, মানুষের আর অস্তিত্ব থাকে না।"
(সাদী, গুলিস্তাঁ)
সাদীর প্রতিটি শব্দ জ্বলন্ত হৃদয়ে সত্যের প্রলেপের মতো মনে হয়। তিনি আপনাকে কালজয়ী প্রজ্ঞার কোমল চাদরে ঢেকে দেন। ভেতরে হয়তো তখনও আপনি দহন অনুভব করবেন, কিন্তু বুঝতে পারবেন যে মানুষের হৃদয় মুক্তি খুঁজতে পারে।
বিশ্বকবিতায় ইরানি কবিতার স্থানকে অস্বীকার করা অসম্ভব । ওমর খৈয়ামের রুবায়েত বিশ্বজুড়ে কবিতার একটি আলাদা কাঠামো তৈরি করে । রুমির আধ্যাত্মিকতা আজ পাশ্চাত্যেও সর্বাধিক পঠিত। জালালুদ্দিন রুমি এবং ওমর খৈয়াম—দুজনেই পারস্য সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং 'রুবায়েত' বা চতুষ্পদী কবিতার প্রসারে তাঁদের অবদান গোলাপি গুলদস্তা , কিন্তু রুবায়েত লেখার ক্ষেত্রে তাঁদের ভাবধারা ছিল দুই ভিন্ন মেরুর।
খৈয়ামের রুবায়েত মানে জীবনের নশ্বরতা, প্রেম এবং বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করার আহ্বান। তাঁর দর্শন অনেকটা 'কার্পে ডিয়েম' (Carpe diem) বা 'আজকের দিনটি বাঁচো'র মতো। তাঁর একটি বিখ্যাত রুবায়েত: "একটু খানি রুটি আর সুরা, /সাথে মোর একখানা বই, /এই নিয়ে নির্জনে কাটে যদি কাল/—রাজার ঐশ্বর্য আমি না সই। /মোর পাশে বসিয়া যদি গাহো তুমি গান, /মরুভূমিও হবে মোর স্বর্গের সমান।"/
অন্যদিকে জালালুদ্দিন রুমির রুবায়েতগুলো সাধারণত সুফিবাদ বা স্রষ্টার সাথে মিলনের ব্যাকুলতা নিয়ে লেখা। তাঁর কাছে প্রেম জাগতিক কিছু নয়, আধ্যাত্মিক উত্তরণ। তাঁর একটি বিখ্যাত রুবায়েত:
"ভালো এবং মন্দের ধারণার ওপারে একটি বিশাল মাঠ আছে,
আমি তোমার সাথে সেখানেই দেখা করব।
যখন আত্মা সেই ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ে,
তখন জগৎ এতটাই পূর্ণ হয়ে যায় যে সেখানে কথা বলার কোনো জায়গা থাকে না।"
রুমির কবিতায় আছে শান্তির চির অমলিন সুর, তাঁর আরো একটি কবিতার অনুবাদ,
"আমি সূর্যের আলোতে একটি ধূলিকণা, আবার আমিই সূর্যের বিশাল পিণ্ড;
আমিই সকালের মহিমা; আমিই সন্ধ্যার সমীরণ।
আমিই বৃক্ষ ও তার শাখা, আর তার ওপরের সব পাখি;
আমিই চিন্তা ও নীরবতা, জিহ্বার ভাষা এবং সাগরের গর্জন।
আমিই যুদ্ধ এবং যোদ্ধা, বিজয়ী এবং রণক্ষেত্র;
আমিই শান্তিপূর্ণ শহর, যুদ্ধ এবং কলহ।"
(রুমি, দ্য ফেস্টিভ্যাল অব স্প্রিং)
রুমির কবিতায় পৃথিবী থেকে সমস্ত হিংসা মুছে ফেলার আকুতি ছিল, কিন্তু তাঁর কবিতা হাজার বছর ধরে টিকে থাকলেও এই পৃথিবীকে হিংসা থেকে মুক্ত করতে পারেনি। তবুও আমরা বিশ্বাস করি যে, এই শব্দগুলো অস্তিত্বশীল যাতে জীবন আমাদের ওপর যে আঘাত হানে তা হালকা করা যায় এবং আমাদের নিজেদের সৃষ্ট ক্ষতগুলোকে দেওয়া যায় উপকারী মলম ।
প্রাচীন পারস্য কবিতা প্রধানত সুফিবাদ (Sufism) এবং বীরত্বগাথার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এই সময়ের কবিতা ছিল রূপকধর্মী, যেখানে 'প্রেমিক' বলতে সৃষ্টিকর্তাকে এবং 'মদ' বলতে ঐশ্বরিক জ্ঞানকে বোঝানো হতো। কবি ফেরদৌসী , তার লেখা ‘শাহনামা’ পারস্যের জাতীয় পরিচয় রক্ষা করেছে।
রুমি ও বিখ্যাত ইরানি কবি হাফেজের কবিতায় উঠে এসেছে মানবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের আকুতি।
কবি হাফেজ রুটি বিক্রেতা এবং নকলনবিশ (copyist) হিসেবে কাজ করতেন—যাঁর মন ঐশ্বরিক কবিতায় নিবেদিত , অথচ সাধারণ জীবিকাই পেশা । এজন্যই বোধহয় তাঁর কবিতার জানালায় ছিল খোলা পৃথিবীর রূপ।
সাধারণ বাস্তবতা, নির্মম সত্য এবং সেই বাস্তবতার মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়ার এক উন্মাদনার মিশ্রণ।
হাফেজ শিরিজির একটি কবিতার পংক্তি ,
"মদ আনো, কারণ জগতের এই রঙিন বাগান ক্ষণস্থায়ী/ বাতাসের ওপর তৈরি এই প্রাসাদের স্থায়িত্ব নেই।"
ইরানি সাহিত্যে নারীদের কণ্ঠস্বর সবসময়ই জোরালো ছিল, যদিও তাদের অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে।
ফরুগ ফারোখজাদ (Forugh Farrokhzad): তাকে আধুনিক ইরানি কবিতার জননী বলা হয়। অত্যন্ত সাহসী এবং খোলামেলা ভাষায় নারীর আকাঙ্ক্ষা ও একাকীত্বকে তিনি লিখেছেন । আধুনিকতা ও বাস্তব অবস্থার জোড়া প্রতিফলন দেখা যায় পংক্তিতে পংক্তিতে । আরো একজন কবি পারভিন এতেসামি ,তিনি তাঁর কবিতায় সামাজিক অবিচার এবং গরিবির কথা বলেছেন।
ফরুগ ফারোখজাদের কবিতার পংক্তি
"আমি রোপণ করব আমার দু’হাত বাগানের মাটিতে/ আমি জানি আমি সবুজ হয়ে ফুটে উঠব।"
ইরানের কবিতা পারস্যের সেই অমৃত, যা মধ্যযুগের আগে থেকেই ইতিহাসের গভীরে জীবন্ত রাখা হয়েছে। হাকিম সানাই, ফেরদৌসী, রুমি, ওমর খৈয়াম, হাফেজ শিরাজি... পারস্য ও ইসলামি সংস্কৃতির এক মিলনবিন্দু ।
হিংস্রতা আর আধ্যাত্মিকতা দুটোই ইরান বহন করে। ইরানি কবিতা প্রাচীনকালে ছিল স্বর্গীয় , ঐশ্বরিক ভাবধারায় প্লাবিত , মধ্যযুগে ক্রমাগত এগোতে থাকে দার্শনিকতার দিকটি , আর আধুনিক যুগে তা হয়ে উঠে প্রতিবাদী ও মানবিক। ভারতীয় উপ মহাদেশের সামগ্রিক কবিতাধারার দিকে তাকালে আমরা এই জিনিসটাই দেখতে পাই।
পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কবিতার মূল সুর অনেকটা একই রকম। সভ্যতার আগ্রাসন মানুষকে বাস্তববাদী করে তুলেছে।
খোমেইনিকে হত্যার পর আমরা একদিকে যেমন ইরানি নাগরিকদের কান্না দেখেছি ঠিক তেমনি অন্যদিকে দেখেছি ইরানি মহিলাদের মুক্তির উল্লাসে নৃত্য । দুটোই সত্য। আয়াতুল্লা খোমেইনি কি কবিতার পক্ষে ছিলেন? আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয়াতুল্লা খোমেইনি নিজেই একজন কবি ছিলেন। তার একটি নিজস্ব 'দিওয়ান' বা কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তিনি মূলত সুফি ঘরানার আধ্যাত্মিক কবিতা লিখতেন। অর্থাৎ, তিনি কবিতার বিরোধী ছিলেন না, কিন্তু তিনি 'প্রতি বিপ্লবী' বা পশ্চিমা ঘরানার আধুনিক কবিতার বিরোধী ছিলেন ।
১৯৭৯ সালে কট্টর ইসলামিক শাসন ইরানে প্রবর্তিত হওয়ার পর লেখালেখির ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। অনেক কবি দেশত্যাগে বাধ্য হন। যেমন সিমিন বেহবাহানি বা ইসমাইল খোয়ী । কবিতার ভাবধারারও পরিবর্তন হয়। ব্যক্তিগত প্রেম বা বিমূর্ত আধুনিকতার বদলে 'বিপ্লবী চেতনা' এবং 'ধর্মীয় বীরত্ব' প্রাধান্য পেতে থাকে। তবে এই চাপের মুখেই প্রতীকী কবিতার (Symbolic poetry) ব্যাপক উন্নতি ঘটে, যেখানে কবিরা রূপকের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জানাতেন।
বর্তমান সময়ের ইরানি কবিতা তাই অনেক বেশি বাস্তববাদী এবং রাজনৈতিক। আজার নাফিসি বা আব্বাস কিয়ারোস্তামির মতো ব্যক্তিত্বরা কবিতাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেছেন। সমকালীন কবিরা যুদ্ধ, একাকীত্ব, নারীবাদ এবং বিশ্বায়নের প্রভাব নিয়ে লিখছেন। সোহরাব সেপেহরি , তার কবিতা প্রকৃতিবাদী এবং পরাবাস্তববাদী। সিমিন বেহবাহানি , তাকে 'ইরানের সিংহী' বলা হয়। তিনি গজলকে আধুনিক প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সিমিন বেহবাহানির একটি কবিতা পংক্তির অনুবাদ,
"আমি আবার আমার দেশ গড়ে তুলব/ প্রয়োজনে নিজের হাড়ের ইট দিয়ে।"
খোমেইনি যুগে কবিতায় সরাসরি রাজনৈতিক প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হলেও, তা ইরানি কবিদের আরও সৃজনশীল এবং রূপকধর্মী হতে বাধ্য করেছে। আধুনিক ইরানি কবিরা যেভাবে সেন্সরশিপের মধ্যে প্রতীক ব্যবহার করেছেন, তা বিশ্ব সাহিত্যের জন্য এক অনন্য।
ইরানি কবিতা আজ তাই কেবল পারস্যের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাধীনতা ও আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার কণ্ঠস্বর।
কিছুদিন আগে ইরানি কবি সাবির হাকার কবিতা আমাদেরকে চমকে দিয়েছিল।।এতো সহজ, এতো স্পষ্ট এবং গভীর যে মনে হয়েছিল এটাই তো এইসময়ের কবিতার স্বর। কালি ও কলম ব্লগে আমি তার কবিতা পড়ি। মূল ফার্সি থেকে অনুবাদ করেছেন খোবাইব হামদান।
সাবির হাকা ইরানের কারমানশায় ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। থাকেন তেহরানে। পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক। কবিতার বই বেরিয়েছে দুটি। ২০১৩ সালে তিনি ইরানের শ্রমিক কবি হিসেবে পুরস্কৃত হোন।
এক সাক্ষাৎকার সাবির বলেছিলেন, ‘আমি ক্লান্ত। আমার জন্মের আগে থেকেই ক্লান্ত আমি। আমার মা আমাকে গর্ভে লালন করার সময় মজদুরি করতেন। সেই সময় থেকে মজদুর আমি, তাঁর ক্লান্তি এখনো আমার শরীরে লেগে আছে।’
তার দুটি কবিতা এখানে রইল ।প্রথম কবিতার নাম ‘যাত্রা’।
ছুটির দিনে দুপুর বেলায়,/ অর্ধেক পথ /আমরা পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছিলাম /আমি ও মৃত্যু –/ও শহরের দিকে যাচ্ছিল/আমি গোরস্তানের দিকে! আর একটি কবিতা ‘স্বাধীনতা ‘ –অবশ্য কখনোই প্রস্তুত নই/হয়তো নিহত বা আটক হবো স্বাধীনতার জন্য /স্বাধীনতা ধ্বংসাত্মক সবসময়ই/
সীমাবদ্ধতা – কিছু স্তরে চেহারা উজ্জ্বল করে/
বোঝে না কেউ/অনুধাবন করে /কিছু সময় স্বাধীনতার মুখাপেক্ষী হই
অতটুকু /যতটুকুতে তোমাকে ভালোবাসি!
আর একটি কবিতার নাম, ‘পিতা’---
আমার পিতা ছিলেন একজন শ্রমিক /
নিষ্ঠাবান বিশ্বাসী মানুষ /তিনি যখন প্রতিবার নামাজ পড়তেন/ঈশ্বর /হাতদুটো দেখে লজ্জা পেতেন!
সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইজরায়েলের অব্যর্থ মিসাইল হামলায় ইরানের একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে যায়। সেটা ছিল মেয়েদের স্কুল। ১৬৭ টি বাচ্চা নিহত হয়েছে।
যুদ্ধের নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা আর করা হয় না, কারণ দর্শানো হয়েছে স্কুল এবং হাসপাতালে ইরানি আর্মিরা লুকিয়ে থাকে।
মেয়েরা হলো পরবর্তী প্রজন্মের উৎস। আর সেই উৎসের সমাহারকে শেষ করে দেওয়া হলো দুর্বল অজুহাতে।
একজন বেহালাবাদক ইরানের যুদ্ধবিধ্বস্ত স্কুলের ধ্বংসস্তুপের ওপর বসে বেহালা বাজাচ্ছেন , পৃথিবী জুরে ভাইরাল হলো সেই দৃশ্য। মৃত্যুর অসহায়তার সুর এতো করুণ তবু তারও তো শৈল্পিক বিচ্ছুরণ হয়।
পৃথিবীর অন্ধকারের মাঝে ইরানি কবিতা তাই বিরল আলো । এমন এক শিল্প যা স্মৃতি, মর্যাদা এবং ধারাবাহিকতাকে বাঁচিয়ে রাখে। একটি অভিন্ন সভ্যতাগত কল্পনায় প্রোথিত এই কবিতা বিভেদ দূর করে এবং শান্ত, দীর্ঘস্থায়ী ছন্দে কথা বলে , কোনো ঘোষণা বা ইস্তেহার নয়, বলা যায় নির্ভীক কবিদের দেওয়া আশ্বাস।
পুনশ্চ:
ইরানি কবিতা মূলত ফার্সি ভাষায় লেখা । এগুলো সবই আন্তর্জাল থেকে নানাভাবে সংগ্রহ করা অনুবাদকৃত লাইন যা কবিতা পাঠের আনন্দ দেয় না। তবুও যেহেতু ফার্সি জানিনা আর ইরানের কবিতাধারা সম্পর্কে সামান্য জানার চেষ্টা করেছিলাম তারই সামান্য প্রতিফলন রইল এই ছোট্ট লেখাটিতে ।
