মণিপুরের জঙ্ঘা
মণিপুরের জঙ্ঘা ( গল্প)
চিরশ্রী দেবনাথ
খুব সাবধানে চাপা দিয়ে দিয়ে রান্না করছি । একটুও যেন স্মেল না বেরোয় । কুরুক্ষেত্র লেগে যাবে তাহলে। আজ শনিবার। শুক্রবার বিকেল বেলা এই ফ্ল্যাটবাড়ির রুমগুলো বেশ ফাঁকা হয়ে যায়। বিশেষ করে যেকোন বড় পরীক্ষা শেষের পর।
চড়চড়ে রোদে দুপুর আরো তেঁতে উঠছে। আমি চারতলায় থাকি। এখান থেকে রাস্তাও মোটামুটি দেখা যায়। হরি আঙ্কলের চা স্ন্যাক্সের দোকানে কয়েকজন বসে আছে , আশা করি এতোদূর অব্দি গন্ধ যাবেনা। আর বাড়িওয়ালা আন্টি তো আর থাকেন না বাড়িতে । তাই আমি আজ মোটামুটি টেনশন ফ্রি। আরো কয়েকদিন রেঁধেছি এরকমই সুযোগ বুঝে । আজ শেষ হয়ে গেল । আবার বাড়ি গেলে আনব। কিন্তু কবে বাড়ি যাবো?
দিল্লির দিলশাদ গার্ডেনের পাশের এই গলিপথ আর পুরনো ফ্ল্যাটগুলো ছাত্রছাত্রীদের কাছে কখনো স্বর্গ কখনো নরক।
আমার কাছে স্বর্গ।
ছোটবেলায় অনেক দূরে ছিল প্রাইমারি স্কুল। রোজদিন যেতে পারিনি। বাবা যেদিন পেরেছে সাইকেলে করে দিয়ে গেছে। কবে থেকে যেন মনের মধ্যে ইচ্ছেটা চাঁগাড় দিয়ে উঠেছিল যে করেই হোক বড় জায়গায় পৌঁছুতে হবে।
তারপর থেকে মিড ডে মিলের পোকা ধরা চাল ,জলের মতো ডাল সবই স্বাভাবিক লেগেছে । জেদের জন্ম নিলে মানুষ গাছের মতো সহনশীল হয়, আমি সহনশীল হতে চাই আমাদের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকের টিলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাজ পড়ে পুড়ে গিয়ে আবার বেঁচে ওঠা বটগাছটির মতো , চেষ্টা করে যাচ্ছি এখনো।
পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরের নবোদয় স্কুলে যেদিন চান্স পেলাম, মনে হলো পৃথিবী আমার।
তিনবছর পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু তাতে কি?
প্রত্যেক ক্লাশে ফার্স্ট হয়েছি। এই দেশে অফিসার হতে পারলে মজাই মজা এটা আমার বিশ্বাস ।
শুধু একদিন ভয় পেয়েছিলাম, সামার ভেকেশনে বাড়ি গিয়েছি । এইসব পাহাড়ি পথ আর ঘরবাড়ি আমার কত্ত চেনা। প্রাণের বান্ধবী শাংবির কাছে যাবো, কিন্তু কয়েকদিনে যেন বদলে গেছে গ্রাম।
কয়েকটি কুকি ছেলে হঠাৎই পথ
আঁকড়ে দাঁড়িয়েছিল।
"না জি? হি লেহ না লাম লো।"
আমার ভেতরেও ঢুকে গিয়েছিল একটি সাপ। হাসতে হাসতে জানান দিলাম আমি ডাইনি , জিন ভর করেছে, অভিনয়টা নিঁখুত থাকায় সেদিন বেঁচে গেছিলাম , কিন্তু ভয় পেয়েছিলাম। বুঝলাম পালাতে হবে বহুদূরে… কোনদিন।
আমার রুমের সঙ্গে এক চিলতে কিচেন অ্যারেঞ্জমেন্ট, একটি ব্যালকনির অর্ধেকেরও কম হবে আয়তনে , যেন পাশের ফ্ল্যাটের সঙ্গে ঠিক এডজাস্ট হচ্ছিল না বলে জুড়ে দিয়েছে এই রুমটির বারান্দায় , বিরাট ভাগ্য মনে হয় আমার, এখানে দাঁড়ালে রাতের আবছা নক্ষত্রদের দেখা যায় আর বর্ষার দিনে রাজধানির বৃষ্টি । দিনের বেলা চড়া রোদে দুটো বালিশও দিয়ে রাখা যায় কখনো সখনো ,
গলির অপরপ্রান্তের ফ্ল্যাটগুলোতে আমারই মতো বহু ছাত্রছাত্রী। পড়াশুনো এখানে নেশার মতো ছড়িয়ে আছে, তাই বুক ভরে শ্বাস নিই , হয়তো গ্রামের মতো বিশুদ্ধ নয় কিন্তু বিশ্বাসী , পরিশ্রম আর মেধার মিশ্রণে বয়ে যায় সৎ বাতাস ।
আসলে এই বাড়িটা ঠিক পরিকল্পিত আধুনিক ফ্ল্যাটবাড়ি নয়। মনে হয় আসল মালিক এটার বন্দোবস্ত করার আগে পর্যন্ত আমরা ছাত্র ছাত্রীদের ভাড়া থাকতে দিচ্ছেন। বাড়িটিতে আমার রুমের রেন্টই সবচেয়ে কম।
রান্না ,& পড়া, কোচিং গিয়ে টেস্ট দিয়ে বিকেলবেলা ঘরে এসে ঘুমোব। একটা হাফ জানলা আছে, সেদিক দিয়ে আকাশ দেখা যায়, বেশিরভাগ সময়ই ঘোলাটে তবুও কোনদিন সামান্য নীলচে আভা।
টাকাপয়সার ব্যাপারে এখন একটু নিশ্চিন্তি। বাচ্চাদের তিনটে কোচিং সেন্টারে পড়াই, মন্দ টাকা না, বাড়ি থেকে বাবা পাঠায় কিছু। কেমন করে জানিনা। শুনেছি চাষবাসে প্রবলেম হচ্ছে, খেতের ফসল পুড়িয়ে দিচ্ছে, আগুন লাগাচ্ছে রাতের অন্ধকারে, বুকের কোণে পাথর চাপা দিয়ে রাখি বিকট এক টেনশন। আর একটি কোণে শুধু স্বপ্ন নয় অপর্যাপ্ত জেদ, শুধু একটা জীবন চাই সুনিশ্চিত।
ছোট থালায় ভাত বেড়ে নিলাম, সামান্য গলা গলা। গরম ধোঁয়া উঠছে, নাকের কাছে ইরোম্বার বাটিটা নিয়ে প্রাণপনে গন্ধটা নিচ্ছি বুক ভরে । তিনটে ছোট ছোট ঙারি ছিল, সঙ্গে আলু, বিনস যা সব্জি আবদুল আঙ্কলের দোকানে পেয়েছি। একটু বেশিই পরিমানে করেছি।
প্রথম গ্রাস মুখে দিলাম।
দরজায় নক
ধুত্তোরি , পরে আছি হাফ পেন্ট, স্যান্ডো গেঞ্জি।
নক করেই চলেছে
কেউ কি টের পেয়ে গেলো ড্রাই ফিসের স্মেল? একটা ডিশ দিয়ে ঢেকে স্পিডে বাটিটা ঢুকিয়ে দিলাম ছোট্ট খাটিয়াটার নিচে। ঘিয়ের শিশি আর নুনের কৌটো ভাতের সামনে রেখে , ঢোলা টি শার্টটা গলিয়ে দরজা খুললাম।
মুখে প্রচুর হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরভ। আরভ শর্মা। পিওর রাজস্থানি ব্রাহ্মণ।
অন্যসময় আরভকে দেখলে আমি মোটামুটি খুশি হই।
আরভ আমার বন্ধু নয়। কিন্তু একই কোচিং সেন্টারে পড়ি, আমি একটু সিরিয়াস বলে বেশ কয়েকজন এখন বন্ধুত্ব করতে চায় , প্রথমদিকে পাত্তাই দিত না। ওরাই তো বোধহয় আর্য। লম্বা , ফর্সা নিঁখুত চেহারা। আমি বেঁটে , চোখগুলো ছোট, নাকের ওপর দিয়ে পাহাড় চলে গেছে, সম্বল একটা আছে অবশ্য ,
ভালো ইংলিশ বলতে পারি , ব্রেনটাও ওদের থেকে খারাপ না।
“অরে সরকো, দরওয়াজে প্য খড়ো রহসি কি অন্দর আসি ভি?"
আরভ আমাকে প্রায় ধাক্কা দিয়ে রুমে ঢুকে গেল।
আর ইয়্যু কুকিং ড্রাই ফিস ?
নো নোওও নট অ্যাট্ ওল , আমি প্রায় চিৎকার করলাম এবং আমি যে মিথ্যা বলছি সেটা বেশ বোঝা গেল।
আরভ খুব বিশ্রিভাবে হাসল …
আন্টি নে ফোন কর লে, তু তো গই, আব তো ও কহেগি তান্নে কিরায়ো নীঁ মিলসি!"
I have not cooked dry fish, I am eating just rice and ghee , দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাইলাম।
আচমকাই আরভ ঝুঁকে খাটের তলায় দেখতে লাগল
আমি ওকে টেনে তুললাম
আরভের তাকানোর মধ্যে বিশুদ্ধ বিদ্রুপ ,
ফ্রম রোটেন ফিস টু এক্সিকিউটিভ ডেস্কস …হোয়াট এ ফ্যারিটেইল! সেইম সেইম! ইটস ফিকশন!
আরভ দাঁতে দাঁত চেপে বলছিল কথা গুলো
আমি হিস হিস করে বললাম.
আরভ আর ইয়্যু সেলফিস ?
আরভ হঠাৎ একটু রিলাক্স হয়ে গেলো,
আজ কোথি নেহি জা রাহা হুঁ ম্যায়… থোড়া মুড হ্যায় তেরে সাথ টাইম স্পেন্ড করনে কা, ব্যস!
তুম জাদা সুন্দর তো নেহি হো, লেকিন সেক্সি তো হো—ইয়ে তো মাননা পরেগা
বুঝলাম আরভ খুব সহজ একটা ই্যকুয়েশন কষে এখানে এসেছে?
বেশ জোরে আরভকে থাপ্পরটা মারলাম
মণিপুরের মেয়ের থাপ্পর
আরভের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে লাগল ,
শান্তভাবে বললাম গেট আউট
একটুখানি থমকাল আরভ
তারপরই চোখের নিমেষে আমার খাটিয়ার তলা থেকে বাটিটা নিয়ে ব্যালকনিতে এসে নিচে ফেলে দিল ,
চিৎকার করে বলল ,
সবকো বতা দুঁগি, ছুপকে ছুপকে কেয়া খাতে হো তুম... ছোটে লোক হো তুম, বহুত ছোটে!
বহু নিচে বাটিটা পড়েছে, তাই স্টিলের বাটি পড়ার আওয়াজটা শুনতে পেলাম না
একটা অস্বাভাবিক চাউনি আমার দিকে ছুৃঁড়ে দিয়ে আরভ চলে গেল
ঘি খেতে ইচ্ছে করছিল না আর। জল লবন আর একটা কাঁচালঙ্কা মেখে ভাত খাবার চেষ্টা করছি, চোখে জল এলো সামান্য। গিলতে পারলাম না , ঢেকে রেখে দিলাম।
হয়তো আগামীকাল আমাকে নতুন রুম খুঁজতে হতে পারে , আতঙ্ক হলো, আমাদের প্রায়ই নানান অসুবিধায় পড়তে হয়, মিজো ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছিল , কিন্তু বাড়তে দেওয়া হয়নি।
বিকেলের আলোয় গলিটাকে দেখছিলাম, প্রিন্টিং জোনের বড় সাইনবোর্ডটা , একটু পরে পরেই চায়ের দোকান, দূরে কালীমন্দিরের চুড়োটা, সামনে ছোলেবাটুরে ,মোমো , চাউমিন, আলুটিক্কা , গোলগাপ্পার ঠেলাগুলো ঝাঁপ খুলতে শুরু করেছে, SSC প্রিপারেশন সেন্টার , নিট, জে ই র বিভিন্ন স্পেশাল কোচিংএ ছাত্রছাত্রীরা এক ব্যাচ ঢুকে আর এক ব্যাচ বের হচ্ছে,
ছোট্ট ছোট্ট ঘুপচি দোকানগুলোতে সব্জি, খাবার কি নেই এই ছোট্ট গলিতে ?
বহুদূরে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা গ্রামটাকে ভয়ঙ্কর দুর্গম মনে হয় এখন , যেখানে সামান্য ঔষধ কিনতে হলে কতদূর আসতে হয় ,
নিজের ছোট্টখাট্টো শরীরটার দিকে তাকিয়ে একটু আগে আরভের কথাগুলো ঠাস ঠাস করে বাজতে লাগল ভেতরে।
আরভরা তো রাজস্থানি ব্রাহ্মণ।
, ওরাই কি আর্য সন্তান?
আর আমাদের মণিপুরে যেসব মিলিটারিরা ছিঁড়েছে মণিপুর কন্যাদের শরীর , তারাও কি আর্য ?
পড়ায় মন বসল না
হাতে দুটো বই নিয়ে নিচে নেমে গলিতে হাঁটতে লাগলাম ।
দিল্লির পূর্ব প্রান্তের এক টুকরো নকশা যেন দিলশাদ গার্ডেন। দুরন্ত ব্যস্ততা নয়, আবার পুরোদস্তুর নির্জনতাও নয়—মাঝামাঝি একটা মিশ্র অনুভূতির জায়গা।
রাস্তাগুলো ছায়াঘেরা। দুপাশে সারি সারি গাছ— পুরনো কাঁঠাল, কুরুল, আর কিছু নাম না জানা ঝোপ-গাছ। শেষ হয়ে যাওয়া দুপুরে হাঁটলে পাতার ফাঁক দিয়ে রোদের ফালি মাটিতে বিছিয়ে থাকে, আর সন্ধেবেলা হালকা বাতাসে ঝরঝর শব্দ হয় পাতার।
কিন্তু এসব দেখে আমার লাভ নেই। আমি ভাতের মানুষ । দুপুরবেলা ভরা পেট ভাত না খেলে ব্রেনে কিছুই ঢোকে না।
আর হাবিজাবি খাবার সহ্যও হয় না। অতিরিক্ত তেল মশলা পাকস্থলী নিতে পারেনা।
দূর থেকে চোখে পড়ল সীতা আন্টির
‘ছোটি ধাবা’ এখনো খোলা।
ভাত তো থাকবে না জানা কথাই। সীতা আন্টি ভাত কম রান্না করে। রুটি আর ডাল পেতে পারি। সেই ঘন ঘন ঘি দেয়া ডাল । তবুও খাবো।
চুপচাপ গিয়ে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে রুটি ডাল দিতে বললাম ।
সীতা আন্টির ছেলে বলল
দাল তো খতম হোগেয়া, মিক্সড ভেজিটেবল বনায়া হ্যায়, চলেগা না?
ঝটপট চারটা রুটি আর সব্জি খেয়ে নিলাম ।
ছেলেটি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জলের বোতলটা আমার সামনে রাখতেই মনে হলো পৃথিবী ততটা খারাপ নয়।
পেটে খাবার পড়তেই কালকের ক্লাস টেস্টের পড়া গুলো মনে হতে লাগল ।
Social Contract Theory , লক, হবস্ ও রুশো কীভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন তা নিয়ে আলোচনা আর Democracy vs. Dictatorship
কেমন যেন হাসি পেতে লাগল । আমার দেশ, আমার গণতন্ত্র !
কিন্তু আমাকে প্রতিনিধিত্ব করে শুধু একটি অনার্য গন্ধ ।
দুইপাশে মোটা থামওয়ালা ভারী গ্রিলের গেট দেওয়া সামনের ফ্ল্যাটবাড়িটিকে কেন যেন প্রথম থেকেই আমার খুব ভয় লাগত । এই পাড়ার সবচেয়ে গম্ভীর প্রকৃতির ফ্ল্যাটবাড়ি , আবার পেছনে বড় বড় গাছও রয়েছে।
এখন সেখানেই রুমের খোঁজ করব।
গেটে তালা ছিলনা। ঢোকা গেল।
কলিংবেল বাজানোর প্রায় একমিনিট পর একজন দরজা খুললেন।
জিজ্ঞেস করলাম , রুম হোগা?
বৈঠে বৈঠে , বলে লোকটি চিৎকার করে বলল 'ম্যাডাম জী, এক স্টুডেন্ট রুম মাঙ্গনে আয়া হ্যায়!'
আমাকে দেখে তাহলে এখনো স্টুডেন্টই মনে হয়।
মোটা গদি দেওয়া পুরনো মডেলের ব্রাউন কালারের সোফা। একটা জানলা দিয়ে পেছনের বাগান দেখা যাচ্ছে। গাছ আর রোদের গন্ধ মেশানো ঘরটি। জানলা থেকে চোখ সরাতেই চোখে পড়ল বিশাল একটি ওয়েল পেন্টিং, যার ছবিটি খুব চেনা। মণিপুরের রাসলীলা নিয়ে আঁকা । পেইন্টিংটির কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। শিল্পীর নাম ক্ষিতীন্দ্রমোহন মজুমদার । চিনিনা আমি। চিনতেও চাইনা। কি হবে চিনে? অভিজাত লোকজন এসব ওয়েল পেন্টিং দেয়ালে টাঙিয়ে নিজেদের শিল্পবোদ্ধা জাহির করে। তবে ছবিটি সুন্দর। আর্টিস্ট মন প্রাণ দিয়ে ছবিটিতে ভক্তি আর প্রেমের রঙ ঢেলেছেন।
ভালো খুব ভালো । কিন্তু বাড়ির মালিক তো এখনো আসছেন না?
তুম স্টুডেন্ট হো? কিয়া চাহিয়ে বেটি? রুম?
ভদ্রমহিলার গলার স্বর খুব নরম। কেমন যেন ভেতরটা পাঁক দিয়ে উঠল। আমার মায়ের বয়সীই হবেন ।
কিন্তু তারপরই একটু গম্ভীর হলেন, বললেন
“"তুমহারা নাম? কহা সে আঈ হো? রুম চাহিয়ে তো এক দো বাত ক্লিয়ার কর লো পহলে।"
ম্যায় চিংথাংগম লেইশাংবি। মণিপুর সে আঈ হুঁ।
নাম থোড়া লম্বা হ্যায়, ফ্রেন্ডস লোক বুলাতে হ্যায় 'লেই'।
বহুৎ সারা এক্সাম দেনা হ্যায় আলাগ আলাগ। ড্রাই ফিশ খাতে হ্যায়, রান্নে মে থোড়ি বদবু আতি হ্যায়... রুম দেঙ্গে কেয়া?
ভদ্রমহিলা চোখ দুটো সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন …
অপেক্ষা করছি উত্তরের।
শর্টস পরা উঁড়ু দুটোর দিকে তাকালাম, বিড়বিড় করে নিজেকে সাহস দিচ্ছি , একে বলে মণিপুরের জঙ্ঘা, ছোটখাটো অপমান কোনো ব্যাপারই না, ক্লান্তিটান্তি ওসব ফালতু কথা …
বিঃ দ্রঃ
কুকি ভাষায়
(না জি? হি লেহ না লাম লো।)
বাংলা
(তুই কে? এটা আর তোর জায়গা না )
( প্রকাশিত, শারদীয় ত্রিপুরা দর্পণ )

0 মন্তব্য(গুলি):