ছোট গল্প শাজাহানের পালঙ্ক, চিরশ্রী দেবনাথ
ছোট গল্প
শাজাহানের পালঙ্ক
চিরশ্রী দেবনাথ
—দেখুন, এই শ্বেত পাথর । একদম খাঁটি জিনিস স্যার , মনে হয় চাঁদের আলোই জমিনে নেমে এসেছে।
—কারুকাজ দেখুন , ডেলিকেইট জালি ওয়ার্ক, ফুলের মোটিফ , ক্যালিগ্রাফি, প্রত্যেকটি নকশার অলগ গল্প আছে স্যার।
দেওয়ালে কোরআনের আয়াত আর ফুলের নকশা একসঙ্গে, এটাই তাজমহলের বিউটি , ইিস্ট্রি আর খুবসুরুতি দনো একসাথ।
এইসব ক্যালিগ্রাফি কে করেছিলেন জানেন?
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আদেশে সেইসময়ের বিখ্যাত পারস্য ক্যালিগ্রাফার আমানত খান ।
মিনার, গম্বুজ, বাগান , সবকিছু কেমন সিমেট্রিতে সাজানো । মার্বেলের ঠান্ডা ফিল করছেন স্যার? না ছুঁয়ে দেখলেও কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে যায় সব। সাইলেন্সকা এক অদ্ভুত যাদু হোতা হ্যায় ।
রণজয় সেন মজুমদার গাইডের কথা শোনেন আর মৃদু হাসেন। তিনি কিছুই বলছেন না তবে অজন্তা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে। আসলে জীবনে পাঁচ ছ’বার তাজমহল দেখার পর ইতিহাসের প্রফেসর রণজয় সেন মজুমদারের তাজমহল নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। সেই ছোটবেলায় “ শাজাহান তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন তার প্রিয় বেগম মমতাজের স্মৃতিতে “ মুখস্থ করেছিলেন তারপর থেকে তাজমহল আর তার পিছু ছাড়েনি।
ভ্রমণপ্রিয় অজন্তারও গাইডের কাছ থেকে তাজমহলের ইতিহাস জানার কোন দরকার নেই তবুও সে এটা ভালোবাসে ।
কারণ গাইডরা নাকি অনেকসময়ই এমন একটা তথ্য দিয়ে বসেন যে যা কোন বইতে লেখা থাকে না।
হয়তো মজাদার , হয়তো ভুল কিন্তু কখনও কখনও ভয়াবহ খাঁটি। তাই অজন্তা মুখ চোখ কুঁচকে গাইডের বাংলা হিন্দি ইংরেজি মেশানো ত্রৈভাষিক ইতিহাস বর্ণনা শুনছে। অজন্তার পরনে জিনস ,ওপরে শর্ট কুর্তি । তার চুলগুলো ছোট করে ছাঁটা ,চোখদুটোতে শিশুর কৌতুহল । রণজয় সেনের মাঝেমধ্যে মনে হয় অজন্তা আক্ষরিক অর্থেই সবজান্তা মহিলা , কিন্তু কখনোই কিছু আগ বাড়িয়ে বলে না।
নিজের স্ত্রী সম্বন্ধে এতো উচ্চ ধারণা খুব পুরুষেরই থাকে, রণজয় সেন এই ক্ষেত্রে একজন ব্যতিক্রমী পুরুষ।
—কিন্তু স্যার দেখুন, আজকাল পর্যটকরা সেলফিতে ব্যস্ত , কেউ হিস্ট্রি শুনতেই চায় না। রুটি রোজগার সবকুছ মোবাইল লে গেয়া। ইসকা ভুখ দিন বো দিন আসমান যেসা হো রাহা হে। একদিন আকাশটাকেও খেয়ে ফেলবে এই মোবাইল ।বুঝলেন স্যার।
—তা আপনি মশাই বাঙালি নাকি? ভালো বাংলা বলছেন ।
—বাংলা না বলতে পারলে কি ভালো গাইড হওয়া যায় বলুন ? হয়তো বিশ্বাস করবেন না ইন্ডিয়া ছাড়াও পৃথিবীর নানা দেশের একটু একটু ভাষা জানি। এ লাইনে বহুৎ কম্পিটিশন, খুদ কো এডভান্স রাখনা পরতা হায়। তাজমহল দিখানেবালা বেস্ট গাইড হু মে । কিতনা সাল হোগেয়া এহি পর হু। তাজ হি মেরা রুটি রুজি। কিন্তু দুখ হোতা হে ইস বাত কি, সম্রাট আর তার মেহেবুবকা মহব্বতকা স্টোরি , ঔর ভি কিতনা কিসসা আছে এই তাজমহলের, সবই এখন ইউটিউবে পাওয়া যায় , গাইড আর নেয় না কেউ।
আগে কত গাইড ছিল এখানে, বেশিরভাগই অন্য কাজে চলে গেলো, বেকার হুঁ ম্যায় , কুছ আতা নেহি, এখানেই আছি।
দেখুন দেখুন স্যার এই দেওয়ালগুলো একজন আর একজনের সঙ্গে যেন কথা বলছে , হাওয়া এলে কান পাতলে শুনবেন সেইসব ফিসফিস , মহব্বত কখনো শেষ হয় না কিন্তু ক্ষমতা খতম হয়ে যায় তাই না?
হঠাৎই রাজ্জাক মাহমুদ চোখ ছোট করে বললেন , শুনিয়ে স্যার ওর ম্যাডামজী , এক চিজ দেখেঙ্গে? পর অভি নেহি , রাতের বেলায় ? আজ ফুল মুন । মিস করবেন না।
তাজমহল ওর ইতিহাসকা অসলি ফ্লেভার মিলেগা আপকো।
অজন্তা আর রনজয় পরস্পরের দিকে তাকালেন। –“হয়ে যাক “
একটু থ্রিল না থাকলে এই ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই তো পাওয়া যায় না।
এখন হোটেলে গিয়ে রেস্ট নিয়ে রাতের বেলা এনজয় করা যাবে।
দীর্ঘ এক চন্দ্রাবৃত রাত্রি। অদূরে বুক ভর্তি দূষিত জল নিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনা।
পৃথিবী তবুও সুন্দর ।
রাজ্জাক মাহমুদ রুটি মাংস খাচ্ছেন। এখন রাত প্রায় বারোটা । রাজ্জাক আর কিছুক্ষণ পর শাজাহান হবেন । যে শাজাহান ভালো বাংলা বলেন ,এমন কি মমতাজের গলায় থাকবে চেনা ভাষার চোরা টান।
এই না হলে ভারতবর্ষ !
কেউ প্রশ্ন করে না। কেন প্রশ্ন করে না?
কারণ মানুষ হিপনোটাইজ হতে ভালো বাসে । সম্মোহিত মানুষই তো রহস্য বাঁচিয়ে রাখে। না হলে তো সব সাদা কালো। ’মাংস’ হওয়ার আগে খাসির গলা কাটা চিৎকার।
—আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ম্যাডাম । সাবধান মোবাইলের আলো জ্বালবেন না। তাহলে সব ফর্সা হয়ে যায়। ওই কথাগুলো কেউ শুনতে পায় না। চলুন তবে।
—রণজয় সেন জানেন বিপদ হতে পারে। অজন্তাও জানেন । কিন্তু শাজাহানের প্রায় চারশ বছরের পুরনো পালঙ্ক দেখতে হলে এটুকু কষ্ট তো করতেই হবে। হয়তো পুরোটাই ভুয়া, আরো অনেকবারের নানা জায়গার বিচিত্র অভিজ্ঞতা তাই বলে । তবুও রণজয় সেন আর অজন্তা এগিয়ে চলেন। অজানা পথ দিয়ে তারা রাজ্জাক মাহমুদের সঙ্গে হেঁটে চলেছেন। যার কেন্দ্রে তাজমহল। বাকি সমস্ত দিক জ্যোৎস্না খেয়ে ফেলেছে।
—সবাইকে তাঁরা দেখা দেন না। হয়তো আপনাদের দেবেন। রাজ্জাক মাহমুদ আস্তে করে বলল ।
কিছুক্ষণ কোন একটি আবছা পথে ঘোরাঘুরির পর বহু পুরনো একটি ভিলার সামনে তারা চলে এলেন। রণজয় সেন আর অজন্তা দুজনেই বুঝলেন ভিলাটি মুঘল স্থাপত্যের তবে খুব বিস্তৃত নয় , সামনে ছোট উঠোন মতো আছে কিনা সেটা বোঝা যাচ্ছে না। পুরোটাই মলিন লালচে পাথরের দেয়াল দিয়ে ঘেরা।
পুরনো এই প্রাচীরের গায়ে কাঠের দরজা। দরজা খুলে রাজ্জাক মাহমুদ তাদের সেই ভিলার ভেতর নিয়ে এলেন।
ঠিকই আছে, কারেন্ট না থাকলেও চাঁদের আলোয় বোঝা যাচ্ছে সামনে চৌকোমতো উঠোন। তাকে ঘিরে রয়েছে ফুল পাতার ডিজাইন দিয়ে ঢাকা একটি অলিন্দপথ।
অলিন্দের বাতাস ভারী। কেন যেন মনে হলো কয়েকটি শতাব্দীর নিঃশ্বাস জমে আছে তাতে। উপরে আলোহীন ঝারবাতিও রয়েছে মনে হলো। কোথাও টুং টাং শব্দ হলো যেন। বেশ ভৌতিক পরিবেশ।
অজন্তার বুকটা সামান্য কেঁপে উঠল। বেশি কৌতুহল বিপদ ডেকে আনবে নাতো? যদি খুন করে মোবাইলগুলো চুরি করে নেয়।
এসব ভাবতে ভাবতেই ঘোরের মধ্য দিয়ে যেন হেঁটে চলেছে তারা দুজন , রাজ্জাক মাহমুদের পেছন পেছন।
অলিন্দ পেরিয়ে একটি ঘর, দুটো ছোট ছোট জানলা। জানলা দিয়ে ছায়ার আলপনা এসে পড়েছে, আর ঘরের মধ্যে সত্যিই পেল্লাই এক পালঙ্ক।
রাজ্জাক মাহমুদ বলল , “এই যে, দেখুন স্যার... শাজাহানের পালঙ্ক। যেটার উপর নাকি শেষ রাতগুলোতে তিনি ঘুমোতেন না, বসে বসে তাকিয়ে থাকতেন তাজের দিকে।”
তিনি তো বন্দী ছিলেন শুনেছি । ভালোই গুল দিচ্ছেন তো, রণজয় সেন খানিকটা বিরক্ত সুরেই বললেন ।
—এতো অবিশ্বাস হলে রাত বিরেতে এলেন কেন? রহস্যময় ইতিহাসের স্বাক্ষী হতেই তো?
চলুন স্যার তাহলে ফিরে যাই।
— না যাবো না, আমি শাজাহানের পালঙ্ক ভালো করে দেখতে চাই, অজন্তা বলল ।
পালঙ্কটা অন্ধকারে অর্ধেক ডোবা, তবু চাঁদের আলো জানলা দিয়ে এসে যেন সেটার গায়ে একটা রূপোলি পরত ফেলেছে। কাঠটা কালচে, কারুকাজ ভাঙাচোরা, অথচ একফোটা ধুলো লেগে নেই পালঙ্কের গায়ে। মনে হয় এখনও ধোয়া মোছা হয়, কেউ ঘুমোয়।
—আপনি কি করে নিশ্চিত হলেন এটা শাজাহানের পালঙ্ক? আর এখানটা দিয়ে কি তাজ দেখা যায় নাকি? যমুনা কোনদিকে?
—এই দিকেই স্যার। জানলা দিয়ে দেখুন?
অজন্তা ও রণজয় দুজনেই জাফরি কাটা জানালায় চোখ রেখে দেখার চেষ্টা করলেন। মনে হলো যমুনার ঠান্ডা বাতাস হু হু করে নাক দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে। ঠিকই? ঐ তো অদূরে চলমান শবের মতো বয়ে যাচ্ছে নিস্তরঙ্গ নদী। সত্যি! সত্যিই তো।
হঠাৎই অস্ত্রের ঝনঝন । চমকে উঠলেন তারা।
সত্যিই কি ঔরঙ্গজেব আর দারাসুকো তাজমহলের চত্বরে লড়াই করছে আর শাজাহানের প্রিয়তম পুত্র দারাসুকোর কাটা মাথা পিতার কাছে নিয়ে এসেছেন আর এক পুত্র ঔরঙ্গজেব ।
শাজাহানের বুক ফাটা আর্তনাদ কি এখনও যমুনা নদী শোনে?
আবার যেন টেলিফিল্মের আলো অন্ধকার দৃশ্যের মতো বদলে গেলো সব। কারা কথা বলছে ? নিভু নিভু গলা!
—না , মমতাজ !
—কি ? কি বলছো জাঁহাপনা ?
—কোষাগার খালি হয়ে গেছে মমতাজ ?
—আর তোমার নতুন বেগম ? যে আমারই ছোট বোন? সে কেমন আছে? তোমার আদরের মমতাজ মরতেই ঐ পাঁচলহরী হিরের হার কি এখন তার? হিরেগুলো শ্রমিকদের দাও? তারা মাংস খাক, দুধ খাক। তাজমহল বানাতে বানাতে মুঘল সলতনতকে যে শেষ করে দিচ্ছো ! লজ্জা হয় না কোষাগারের টাকা এইভাবে নষ্ট করছ?
—তোমার সমাধি হবে পৃথিবীর সেরা?
—আমার সমাধি হয়ে গেছে জাঁহাপনা, এখন তুমি খ্যাতির জন্য মিথ্যের মহল বানাচ্ছো ।
—মিথ্যের মহল বানানোই সম্রাটদের কাজ। প্রজাশোষণের রক্ত লেগে থাকবে তাতে শতাব্দীর পর শতাব্দীর । তাজমহল হবে সেই সঞ্চয় যা মানুষকে শুধু লোভ দেখাবে।
—পালঙ্কে এসো মমতাজ । চলো দুজনে তাজমহল দেখি।
দুটো ছায়ামূর্তি অগ্রসর হচ্ছে। খুব আস্তে। তাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তবে মমতাজের দেহ সৌষ্ঠব আবছা অন্ধকারেও নিঁখুতভাবে প্রতীয়মান।
তিনি যেন পরে আছেন ফিরোজা ও মুক্তোর ছোঁয়ায় গড়া রেশমি জামা, এতই সূক্ষ্ম যে আলো তার ভেতর দিয়ে গিয়ে ঘুরে ফিরে আবার ফিরে আসে তার ত্বকের উপর।
রেশমের মধ্যে সোনালি সুতোয় সূচিকর্ম করা ফুলের নকশা — গোলাপ, চাঁপা, নীলকমল।
কোমরে সোনালি কোমরবন্দ, তাতে গেঁথে আছে পান্না ও রুবি, জ্বলজ্বল করছে সব।
চুলে জুঁই ও গোলাপের গজরা, আর মাথার উপরে হালকা জারদৌসির ওড়না, যার পাড়ে বসানো অজস্র মুক্তো ঝকমক করছে, মৃত্যুর সৌন্দর্য কি এতোটাই নিবিড়?
শাজাহানের পরনে সাদা মসলিনের জীর্ণ জামা, যার ওপর চাঁদের আলো পিছলে যাচ্ছে, কাঁধে পশমিনার শাল আলতো করে ফেলে রাখা, কাশ্মীরের মহারাজা দিয়েছিলেন বহু শতক আগে। এ হলো বন্দী শাজাহান, গলায় মুক্তোর মালা নেই। হাতে বাঁধা জীর্ণ তাবিজ, বড় বড় চুল আর রাজকীয় হাঁটা এটুকু সম্বল করেই তিনি আজ শাজাহান।
হঠাৎ দূরে, শহরের কোনো প্রাচীন মিনার থেকে ভেসে আসে ফজরের আজানের প্রথম ধ্বনি — “আল্লাহু আকবর…।
চমকে উঠলেন রণজয় সেন মজুমদার আর অজন্তা।
আগ্রার আকাশে হালকা লাল আভা ফুটছে। ভিলাটির দেওয়ালগুলো যেন যমুনার হাওয়ায় কেমন ভিজে ভিজে হয়ে আছে, পুরনো বাড়ির লবনাক্ত গন্ধ ভেসে আসছে চারদিক থেকে।
রণজয় চিৎকার করে উঠলেন, ‘রাজ্জাক মাহমুদ ‘ কোথায় আপনি ?
অপেক্ষা করতে হলো না। পাশের একটি ঘুপচিমতো ঘর থেকে শাজাহানবেশী রাজ্জাক মাহমুদ বেরিয়ে গেলেন। সঙ্গে কিছুক্ষণ আগের মমতাজ বেগম ।
ঘোর কেটে গেছে। রণজয় সেন আর অজন্তা দেখলেন,
দুজনের পরনেই খুব সম্ভবত দিল্লির চাঁদনি-চক থেকে কেনা কাপড়ের পোশাক, পুঁতি আর স্টোনের মালা ।
—এসবের মানে কি ? মানে তামাশা করছেন নাকি ট্যুরিস্টদের সঙ্গে?
—রাজ্জাক মাহমুদ খুব স্বাভাবিক স্বরে বললেন আরে কি বলছেন স্যার? আপনারা দুজনেই রহস্য দেখতে চেয়েছিলেন। সেই ফিলিংসটা পেলেন তো। এখন আমাকে আর আমার মেয়েকে আরো তিনহাজার টাকা দিন। কি করব বলুন , গাইড ছিলাম। সেটাও কেড়ে নিল আপনাদের মোবাইল । এখন এসব নাটক করি। ঠকাইনি। বাইরে চলুন দেখতে পাবেন।
—এক টাকাও আর দেবো না। রণজয় সেন দাঁতে দাঁত চেপে বললেন ।
ভোরের প্রথম আলোয় সেই অলিন্দ পেরিয়ে , ভেতরে শাজাহানের পালঙ্ককে রেখে, যমুনা নদীর অস্তিত্বকে অনুভব করতে করতে তারা বেরিয়ে এলেন কাঠের দরজার বাইরে ।
এখন দেয়ালে টাঙানো বেশ বড়ো সাইন বোর্ডটির দিকে চোখ পড়ল। সেখানে লেখা আছে,
“Step back into history tonight — contact us now!
Experience the mesmerizing Taj Mahal night view under the moonlight.”
Guided by: Razzak Mahmud and Co. Limited.”
“PRIVATE PROPERTY. MAHAL VIEW HOMESTAY—COMING SOON.”
অজন্তা হঠাৎ হেসে ফেললেন হো হো করে।
তারপর বললেন কোথায় আপনার কিউয়ার কোড? বের করুন।
ফাইভ থাউজেন্ড ট্রান্সফার করে অজন্তা বললেন , এ টাকায় কয়দিন তো চলবে আপনাদের? .
তবে আমরা না হয় বাঙালি , তামিল ট্যুরিস্ট এলে শাজাহান- মমতাজ কি ভাষায় কথা বলবে বলুন তো?
—থেঙ্ক ইউ ম্যাডামজী । তখন তারা তামিল ভাষায় কথা বলবে ।এইটুকু পরিশ্রম তো করনা পরেগা বেস্ট গাইড রহেনে কি লিয়ে ।
— বাই দ্য ওয়ে , আপনার মেয়ে কিন্তু শাজাহানের সঙ্গে হিরের হার নিয়ে ঝগড়াটা ভালোই করেছে। আপনাদের ব্যবসা ভালো হোক।
সূর্যের প্রথম কিরণ তখন অনতিদূরে তাজমহলকে ঢেকে দিচ্ছে দিনের স্পর্দ্ধায় । রাতের নীলাভ তাজমহল আস্তে আস্তে গোলাপি হয়ে উঠছে।
—রণজয় সেন অজন্তাকে বললেন , আর কতদূর গেলে দু কাপ ভালো চা পাবো বলো তো ?
মাথাটা একদম ঝিম ঝিম করছে শাজাহানের দাপটে।

0 মন্তব্য(গুলি):