সংখ্যার শরীরে মৌমাছি , চিরশ্রী দেবনাথ

৩:১৩ PM চিরশ্রী দেবনাথ 0 Comments


সংখ্যার শরীরে মৌমাছি , দশম পর্ব,  চিরশ্রী দেবনাথ


পর্ব দশ



অনন্তনাগের কাঠের ছোট্ট দোতলা বাড়িটির জানলা খুললেই গম্ভীর পাহাড়ের সারি। ঝুলন্ত বারান্দা পেরিয়ে ঘরের ভেতর  ছোট্ট পড়ার টেবিল। হিম ভেঙে আসা কয়েকটুকরো দুর্লভ রোদ সেখানে ছায়ার. সঙ্গে  গোপন আঁতাত তৈরি করে। 

জাহানারার হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মধ্যম জাহানারা,  যার গোলাপি মসৃণ ত্বকে ঝকঝক করছে তারুণ্যের দীপ্তি। ঠোঁটদুটো কোন রঙ ছাড়াই কেমন যেন রক্তাভ লাল. মাথায় ওড়নার আবরণ ঠেলে প্রায়ই বাইরে বেরিয়ে আসে কিছু অবাধ্য রেশমি চুল। জাহানারা উচ্ছ্বল তরুণী নয়।  গভীর চিন্তায় ডুবে থাকে সারাক্ষণ।  চারটি লেটার নিয়ে টেন পাশ করেছে, রহমত মহম্মদের  ছেলেমেয়েদের মধ্যে দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্যক্রমে মেয়েটিই সবচেয়ে পড়ায় ভালো । জাহানারার পরিবারের সবাই চায় সে মেডিকেলে যাক। এই শহরের মেয়ে ডাক্তারি পাশ করে এখানেই ডাক্তার হয়ে ফিরে আসুক,  এরকম একটা গর্বের স্বপ্ন দেখতে দেখতে জাহানারার মা শাকিনা বেগম ঘুমোয়।

মার্চমাসে স্বর্গের মতো হয়ে ওঠে এই ঝিলম নদীর উপত্যকা,  লিডার নদীর অববাহিকা।

আমন্ড বাদামের ফুলে ফুলে ছাওয়া গোলাপি বসন্ত , বরফাবৃত হিমালয়ের শৃঙ্গ, আরো অজস্র ফুলের সমারোহে যখন মাঝেমধ্যেই গর্জে ওঠে বন্দুক , কোথাও আচমকাই জ্বলে ওঠে বিস্ফোরণের আগুন,  পুলওমার সীমান্তে চলতে থাকে গোলাগুলি তখনই আবার রাতের অন্ধকারে কারা যেন খাবার দেওয়ার হুকুম দেয় ।  জাহানারাকে বাইরে বেরোতে দেওয়া হয় না। ভাইদেরও লুকিয়ে রাখা হয় ঘরে। আম্মু নিভে যাওয়া কাঠের উনুন আবার ধরায়, মোটা মোটা নরম রুটি আর ভেড়ার মাংস রান্না করে, জমিয়ে রাখা দুধের সরের খোঁজ পড়ে,  কাঁপা কাঁপা হাতে শাকিনা বেগম টিফিন কৌটো বের করে,  বাচ্চাদের জন্য জমানো,  কি আর করা। 

ওপরের ছোট্ট জানলাটা একটু ফাঁক করে জাহানারা বশির দেখে বন্দুক নামিয়ে লোক 

গুলো খাচ্ছে,   হিংস্র লাল চোখগুলো বলে দেয় তারা ভারতবর্ষকে ভালোবাসে না। উঠোনের আপেল গাছটা থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে নেয় আপেলগুলো,  ডালপালা ভেঙে যায়, ঝুড়ির মধ্যে রাখা ভুট্টা গাজর হামলে পড়ে নিয়ে নেয় ব্যাগে তারপর ভোরের আলো ফোটার আগেই বের হয়ে যায়। দু একজন ঘাড় উঁচু করে অনেকক্ষণ ধরে দেখতে থাকে দোতলার ঘরটিকে,  আম্মা বলে রাখে হালকা আলোও যেন না জ্বলে তবুও ফয়জল নামের একটি ছেলে জানে ঐ ঘরটিতে জাহানারা বলে কেউ আছে যে খুব ভালো অংক কষতে পারে।

হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে জাহানারা বশির । অনন্তনাগ জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পায়। ম্যাথসে একশতে একশ। সাংবাদিকরা বার বার বলতে থাকে সংখ্যালঘু ফ্যামিলি থেকে উঠে আসা এক গণিতপ্রিয়ার নাম। টিভির পর্দায় নিজের নাম শুনে কেমন যেন কুঁকড়ে থাকে জাহানারা। 

আপেল গাছ আর অ্যামন্ড বাদামের ফুলে ছাওয়া তার ছোট্ট বাড়িটিকে যেন জাহানারা হিমালয়ের রুপোলি কুয়াশা দিয়ে ঢেকে রাখতে চায়। সে চায় না তাকে কেউ চিনুক। তার ভাইদের কেউ দেখুক। তারা যেন নিঃশব্দে বড় হয়ে চলে যেতে পারে কোন শান্তির জায়গায়, বড়ো শহরে যেখানে রাত হলে গুলির আওয়াজ আসে না , 

আর্মিদের বুটের আওয়াজে মচ মচ করে ওঠে না চিনার গাছের পাতা ঝরানো বসন্তপথ ।

কিন্তু মেধা অনেকটা সুগন্ধের মতো । তাকে চেপে রাখা যায় না। যে খবর প্রতিবেশি জানেনা তা পৌঁছে যায় ভারতবাসীর কাছ। 

 খবরের কাগজে নাম ওঠে । আজ তক চ্যানেল থেকে সাংবাদিক আসে। জাহানারার ছবির মতো বাড়ি সংবাদপাঠিকার চিৎকারে কেমন যেন ভয়ার্ত হয়ে ওঠে ।

হিজাবে ঢাকা মুখ , অনুরোধেও মুখ দেখাতে চায় না জাহানারা,  মেধাবী মেয়ের আম্মার মুখও ক্যামেরার আলোর সামনে ঝলসাতে চায় না।

গভীর রাতে অংক কষা মেয়েটি নিভৃত সংখ্যার কাছে শুধু নিজেকে সমর্পন করতে চায়। 

মেডিকেল পড়তে হবে। সবাই ধরে নিয়েছে জাহানারা বশির ডাক্তার হবে।

কিন্ত মেয়েটি কলেজে ভর্তি হয় নন মেডিকেল কোর্সে,  বি এস সি ম্যাথস মেজর রেখে।

শাকিনা বেগম হতাশ , শাকিনার বাবা ভাবতে থাকেন এ কোন বিপদে পড়লাম। মেয়ে কী না অংক করবে। বংশে একজনই এসেছে পড়ায় ভালো  , এত্তো বড়ো সুযোগটা হেলায় সরিয়ে দিলো জাহানারা !

অনন্তনাগের সরকারি মহিলা কলেজ জাহানারার জন্য যেন মুক্তির প্রথম জানালা। যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সময়ের মধ্যে একটি নিঃশব্দ আশ্রয়।  সংখ্যার  নিখুঁত  যুক্তি, আর জ্যামিতির ভেতরের সৌন্দর্য , গ্রুপ থিয়োরি  তাকে টানত এক রহস্যময়তার দিকে। জাহানারার আব্বা তখন আর তার পেছনে টাকা খরচ করতে চাইতেন না,  স্কলারশিপই ছিল ওর ভরসা ।


অংকের সমাধান   মিলে গেলে , জাহানারার চোখে ভেসে উঠত শান্তির ছবি—যেন গোলাগুলির শব্দের বাইরে, হিমালয়ের পায়ের তলায় সে একা দাঁড়িয়ে আছে, হাতে বিজয়মাল্য।

এভাবে যদি কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা যেত। 


কিন্তু গবেষণায় আগ্রহ জন্মায় একদিন ক্লাসে একটি বিষয় শেখার সময়। অধ্যাপক বলছিলেন ইলিপটিক কার্ভ ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে যা ফিউচারের কমিউনিকেশনের নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এবং আজ যারা অংক নিয়ে পড়াশোনা করছে ভবিষ্যতে তাদের কাছে হবে এটা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় , এই ব্যাপারে গবেষণা করতে পারলে প্রচুর সুযোগ রয়েছে কাজের। ডিজিটাল পৃথিবীর বর্ম হবে এ সংক্রান্ত কাজ। তখন থেকেই জাহানারার ভেতরে সুপ্ত ইচ্ছে জেগে ওঠে সে মনে মনে ভাবত —“আমি এগুলো নিয়েই কাজ করতে চাই।"

এদিকে ধীরে ধীরে আম্মা আব্বা জাহানারার পাশ থেকে সরে যাচ্ছে,  এইসব বিষয়ে পড়াশোনা করে তো জাহানারা টিচারও হতে পারবে না এই ছিল তাদের ধারণা। কিন্তু সংখ্যালঘু ছাত্রী ও মেধার জোরে জাহানারা নিয়মিত স্টাইপেন্ড পাচ্ছে পাশাপাশি সে নানা কোচিং সেন্টারে অংক করিয়ে ভালোভাবেই পড়ার খরচ চালাচ্ছিল।

জাহানারার লক্ষ্য ছিল কাশ্মীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া। ভূস্বর্গ নয় এ যেন এক জেলখানা। মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে করত নাম বদলে কোন নিউট্রাল নাম নিতে। নিজের জাতি,  জন্মস্থান,  আব্বা আম্মা সবার থেকে দূরে গিয়ে জাহানারা হয়ে উঠতে চাইছিল অন্য পৃথিবীর মানুষ ।

পরিবার থেকে একরকম অভিমান করেই জাহানারা ভর্তি হলো  কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে । এ  তার দ্বিতীয় মুক্তি ।

শ্রীনগরে হজরতবাল ইউনিভার্সিটিতে-এ এমএসসি শুরু করার পর, জাহানারা আরও একধাপ কাছে যায়  স্বপ্নের দিকে। সেই ক্যাম্পাসে আধুনিক লাইব্রেরি ছিল, আর ছিল স্বাধীনতা। সে ক্রিপ্টোগ্রাফির বিখ্যাত কিছু জার্নাল পড়তে শুরু করে—RSA, Diffie-Hellman, Symmetric Key vs Asymmetric Key ইত্যাদি নিয়ে। 

তার M.Sc-র দ্বিতীয় বর্ষে একদিন প্রফেসর দানিশ হোসেইনি ক্লাস নিতে এসেছিলেন—তিনি কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি প্রফেসর হিসেবে এসেছিলেন সেই সময়। তার লেকচারের বিষয় ছিল  "Mathematics beyond Numbers: An Introduction to Post-Quantum Cryptography." 

ক্লাসের শেষে জাহানারার প্রশ্ন শুনে তিনি থমকে গিয়েছিলেন—

“স্যার, তাহলে কি আজকের সবচেয়ে জনপ্রিয় encryption systems—RSA বা ECC—একদিন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাবে?”


প্রফেসর দানিশ হেসে বলেছিলেন, “তুমি যদি এই প্রশ্নটা করতে পারো, তাহলে তুমি EIMS-এ আমার সঙ্গে কাজ করতে পার। কী বলো, জাহানারা বশির?”

সেই মুহূর্তেই জাহানারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

কিন্তু কাশ্মীরে যারা জন্ম নেয় তাদের পায়ে এক অদৃশ্য আগ্নেয় শিকল থাকে যা জন্মদাগের মতো সারা জীবন ধাওয়া করে পেছন পেছন  । জাহানারা যখন নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে আর তখনই অচেনা এক সুতো তাকে টেনে নিয়ে আসছে অতল গহ্বরের দিকে। 


তুম্ ক্রিপ্টোসিস্টেম মে ইন্টারেস্ট রাখতি হো?


চমকে উঠল জাহানারা।   বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পুরনো এক টেবিলে বসে সে একমনে পড়ছিল নাম্বার থিয়োরি ইন ক্রিপ্টোগ্রাফি , সেই রহস্য থেকে বর্তমানে ফিরে আসতে  একটু সময় লাগল ,  বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে দেখল  তার সামনে এক অচেনা ছেলে,  চোখে বুদ্ধিদীপ্ত চাহনি,  মুখে হালকা দাড়ি , হাতে একটি বই , দ্য কোড বুক বাই সাইমন সিং।


ছেলেটি আবার বলল ,

তুম ক্রিপ্টোসিস্টেম পর কাম কর রহি হো?



জাহানারা বিরক্ত বোধ করলেও  মাথা নাড়ল। যদিও জাহানারার কথা বলার একদমই ইচ্ছে নেই তবুও বলল ,



ঔর আপ?


মেরা নাম ফয়জল হ্যায়। ম্যায় হিস্ট্রি মে মাস্টার্স কর রাহা হুঁ। লেকিন কোডিং মুঝে বহুত আকর্ষিত করতা হ্যায়।

তুম জানতি হো? হার এক অ্যালগরিদম আসলে এক শাসনব্যবস্থা হোতা হ্যায়।"



নাহি, জানতি নেহি হুঁ। অভি মুঝে পড়নে দো, প্লিজ।


ওকে, ম্যায় কোই ডিস্টার্ব করনেওয়ালা লড়কা নেহি হুঁ।

তুম তো ফেমাস গার্ল হো। পেপার মে তুমহারি ফটো আঈ থি,তব সে জানতা হুঁ তুমহে।

ম্যায় তুমহারা আশপাশ হুঁ, লেকিন তুমকো কভি পাতা নেহি চলা।

তুম এক খোয়ি হুয়ি লড়কি হো — ইসিলিয়ে শায়দ মেরা দিল তুমহারি তরফ খিঁচতা হ্যায়।


লেকিন মুঝে খিঁচতা নেহি।


ফয়জল হালকা হেসে বলেছিল


তো?


জাহানারা এড়াতে পারেনি ফয়জলকে। এক অদ্ভুত কথোপকথনের মধ্যে ফেঁসে যায় সে, তবে বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তার জন্য ফয়জলকে তার ভালো লাগত তাছাড়া সে এইসময় ছিল অনেকটাই নিঃসঙ্গ , পরিবার থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ।

 মাঝে মাঝেই ক্যাফেটেরিয়ায়, লাইব্রেরির করিডোরে দেখা হত তাদের। ফয়জল তাকে RSA-র পলিটিক্যাল ইমপ্লিকেশন নিয়ে প্রশ্ন করত, বলত— “Cryptography isn’t just mathematics. It’s about control. যারা এনক্রিপশন বোঝে, তারাই নিয়ন্ত্রণ করে তথ্য।”

জাহানারার মধ্যে দ্বিধা জন্মাতে থাকে —সে বুঝতে পারে না, ফয়জল কী বলতে চায় ।


একদিন সন্ধ্যাবেলায় তারা দু’জন হাঁটছিল ডাল লেকের পাড় ধরে। ফয়জল হঠাৎ বলে বসে—


তুম জানতি হো, কুছ লোগ তুম্পে নজর রাখ রাহে হ্যায়। তুম কি ইয়কিন সে কহ্ সকতি হো কি সিরফ রিসার্চ হি কর রহি হো?"


তুম কয়া ইশারা দে রাহে হো?


কুছ অ্যালগরিদম অ্যায়সে জগহ পে কাম করতে হ্যাঁ, জাহাঁ তুম সোস ভি নেহি সকতে।

তুম জো সোসতি হো, উসসে কাই জ্যায়দা ইম্পরট্যান্ট বনতি জা রাহি হো।


সে রাতেই জাহানারা তার ল্যাপটপের ব্রাউজিং হিস্ট্রি চেক করে। অদ্ভুত কিছু আইপি, অজানা লগ... যেন কেউ সত্যিই চোখ রেখে চলেছে।

জাহানারা ফয়জলকে ভয় পেতে শুরু করে। তার মনে হয় যত দ্রুত সম্ভব তাকে কাশ্মীর ছাড়তে হবে। এম এস সির লাস্ট সেমিস্টারেই জাহানারা জে আর এফ কোয়ালিফাই করে । আর তারপর  জাহানারা পায় Eastern Institute of Mathematical Sciences (EIMS) থেকে অফার লেটার।

PhD in Cryptographic Systems—এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো জাহানারার জীবনে।

 ফয়জল যেন  আর না আসে তার কাছে ।

 ব্লক , ব্লক , ব্লক । একমাত্র আম্মা আব্বা ছাড়া কাশ্মীরের সবার নাম্বার সে ব্লক করল। কেউ যাতে তার খোঁজ না পায়। কেবল সংখ্যা দিয়ে আঁকা  হোক জাহানারার শরীর।


ডাল লেকের শিকারাতে এক সন্ধ্যায় ফয়জল তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল , 


হম দোনে মিলকে এক দারুন কাম কর সকতে হ্যাঁ — জাহাঁ পয়সা ভি হোগা অউর পওয়ার ভি।



মুঝে নেহি চাহিয়ে। ম্যায় তো খুলি হাওয়া মে উড়না চাহতি হুঁ।



মগর তুম কাশ্মীর সে হো। কুছ ভি নেহি করোগি তুম কাশ্মীর কে লিয়ে?



করুঙ্গি তো মেরি দেশ কে লিয়ে। কাশ্মীর কো আলাগ কিউ সমঝতে হ্যো? ও ভি তো হিন্দ হ্যি হ্যাঁ।


 জোর করে কাছে টেনেছিল ফয়জল। জাহানারার হিজাব সরিয়ে ফিসফিস করে বলেছিল ,

ইয়ে হোঁট মেরা হ্যাঁ… মেরা হি বলেগা।


হুলের মতো লেগেছিল ফয়জলের প্রথম চুম্বন। 












0 মন্তব্য(গুলি):