বাংলাদেশ / চিরশ্রী দেবনাথ

৭:১০ PM Chirasree Debnath 0 Comments

বাংলাদেশ (স্বাধীনতা দিবসে, উৎসর্গ )
.....©চিরশ্রী দেবনাথ

দুই ফোঁটা রক্ত বাংলাদেশের
বাসা বেঁধে আছে আমার পঙ্খনীলে
উড়তে পারিনি তবু কোনদিন

আমার মাথায় একটি বালিশ শিমুল তুলোর
দুরন্ত ঝড়ের দিনে যে  তুলো ফুল পথ হারিয়েছিল
তারাই আমাকে কিছু স্বপ্নচূর্ণ এনে দিতে চায় বার বার ঘুমের ছলে

একথা ভীষণ সত্যি
কোনদিন স্বপ্নে তোমাকে দেখি না  আমি  "বাংলাদেশ "
আশ্চর্য সব নদী আছে তোমার
শুকিয়ে গেছে তাদের সানুদেশ, জঙ্ঘা
আমার কোন স্পর্শ নেই সেই জলভরা অতীতে

বৃষ্টির সন্ধ্যায় এই যে আমি চোখ ডুবিয়ে পড়ছি বই
মনে হয় চারপাশে জমে উঠেছে আমার প্রিয় বাবা গন্ধ
একটি দাঙ্গা, যাকে দিয়েছে এক ভুল সাম্প্রদায়িক জীবন
যার ভিড়ে আমার ছোটবেলা ঘুরেছে    
কখনো নেমেছে অন্ধকার
এখন রাস্তা আলো করে হেঁটে যায় আমার  চোখ
মনে হয় আসলে বাবার মনে ছিল এক নির্দোষ মেঘ
কতটা ভুলে গেলে এখনো প্রতিদিন সীমান্তের ওপারেই বাবার বর্ষা নামে অঝোরে

চৌষট্টিতে বাবা মা সে দেশ ছেড়ে এসেছিল
ঊনআশিতে আমি, ততদিনে তাদের শরীরে
জমেছে সীমান্তের এ পারের বাস্তুচিহ্ন, পাথরের অভিঘাত

মাঝে মাঝে শিউরে উঠি তবু শাপলার রক্তক্ষরণে

কারা সে মানুষ, দাদুর রক্ত, ঠাকুমার বহ্নি বেলা?
কতো কতো নদীর বাহুতে প্রবাহিত কবেকার প্রেমের গল্প, পাতানো সই, ঝুরো মাটির বিকেল

শুধু জেনো মনে হয়
কাঁটাতারের বেড়া  পেরিয়ে ফুটছে কোথাও অবেলার পায়েসান্ন

জন্ম দেওয়া ভুলে গেছো বাংলাদেশ?

একটি একটি সন্তান চাই তোমার, বারুদের হৃদয়, মোমের শরীর, তলোয়ারের মতো শাণিত গ্রীবায় পলাশের  স্থলিত পায়ের ছাপ
হেমন্তের শেষবেলায় ঘরে ফেরা কৃষকের চোখে ফুটে ওঠে
যাবতীয় ঋণের যন্ত্রণার সেতার
সেই অনাগত সন্তানের ডহর গলায় ঐ কষ্ট যেন চীৎকার হয়ে ফেটে পড়ে দমকে দমকে
ধুলোমাখা আদিগন্ত চুল ঐ ছেলের
পুড়ছে সেখানে  সীমান্তের বৈধ যতিচিহ্ন
গন্ধে  মাতাল  এ দেশের মেয়ে, বাস্তুসাপ তার বিশ্বস্ত বন্ধু
পাড়ি দেবে জিরো বর্ডার, হৃদয়ে নোনা হেমন্ত
আগুনে ভাঁপে লাল হয়ে গলছে পিঠেপুলির মায়াবী সকাল
মাটির আড়ালে তালশাঁসের অগভীর জলজ প্রাণ
এমন বেঁচে থাকায় শুধু মেয়েরা হেঁটে যেতে পারে
অপেক্ষা প্রেমের, টগবগে এক তরুণের,

কখনো ভুলে যায় সে মেয়ে, যেন হয়ে ওঠে কুমারী মা
কাঁখে ও পিঠে তার  দুই  দেশ
ক্ষুধা নিয়ে জেগে আছে,
আকাশে একই সূর্য, কোনদিন  সূর্যগ্রহন, সন্ত্রাস কালো
কোনদিন গনতান্ত্রিক ...ঘন সবুজ, লালে লাল

0 মন্তব্য(গুলি):