গ্রীষ্মের কবিতা

চূর্ণগ্রীষ্ম

এক


দহনে জাত  দিনটিকে মনে হয় সবুজ মোম 

গলে গলে  গর্ভে ধারন করছে শ্যাওলাসুখ,  গুল্মসঙ্গম, শুধু কিছু অবান্তর ছেঁড়া বৃষ্টি হোক 

বেড়ে উঠবে পত্রবিতান, বানানো গল্পগাছা

গ্রীষ্মের এই সন্ন্যাসীজীবন আসলে তার শাপগ্রস্থ যক্ষ্মা কাল 

সব প্রাচীন কবিরা হাতে তুলে নিয়েছে যন্ত্রকলম

ছিটকে ছিটকে পরছে পুরাতন গ্রীষ্মশরীর 

ঢুকে যাচ্ছে সব আসন্নপ্রসবা মায়ের গর্ভকুটিরে

চন্দনবর্ণের পুরুষেরা জন্ম নেবে, ছেয়ে যাবে সুগন্ধি গরম ...



দুই


বৈশাখকে  আজ নেমতন্ন দিলাম 

নীল নীল আঙরাখা তার  পৌরুষকে ঢেকে দিল 

আমার বিস্বাদ নেমতন্ন উপেক্ষা করে

কুলফি বিকেলে সে জানিয়ে গেলো 

কোথাও, অন্য কোথাও তার বৃষ্টি হয়ে ঝরার কথা.... 




তিন

রুক্ষ পাহাড়ের গোপন বুকে

একটি বিন্দু বিন্দু ঘামের সরণী বয়ে যায়

যেসমস্ত খুনীদের... আরো... আরো গভীর পাপীদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল,

তারা সেখানে গান গায়,খুনীর গান, পাপীর গান,

সে সব সুর তাল লয় মাটির গর্ভ থেকে উঠে আসে

সুরের সঙ্গে মিশে থাকে সদ্যজাত শিশুর নাড়ি রক্ত,

ফাঁসির দড়ি গুলোতে কি দারুণ পাপ সমারোহএকটি রূপোর থালায় গ্রীষ্মের ফুলসব খুনীদের চোখে শ্বেতপাপ চলকে চলকে উঠেকত পাপ শেষ হলে তবে তারা দেবশিশু হবে 

পারিজাতগন্ধ মা পাবে তারা, গর্ভে জ্বলে উঠবে বিদ্যুৎ জন্ম পাহাড়ি বীর্যে জারিত হচ্ছে গজলসুর ,বিশুদ্ধ লোকগাঁথা , 

পাপ বলে আর কিছু থাকবে না  আসন্ন পৃথিবীতে। 




চার


গ্রীষ্মের গোধূলিকে মৃত্যুর কাছাকাছি প্রবলভাবে

জেগে থাকা মানবী বলে মনে হয়

তার রক্তচাপ আসন্ন বিভাবরী 

দমকে দমকে ভেতর থেকে

উথলে আসে চিরজীবনের নদী

সে শুধু আসন্ন, শুধু কাছাকাছি হয়ে থাকে

পরন্ত ফলের মতো একটু দুরে মৃত্যু

তার চিবুক নিয়ে খেলতে থাকে, খেলতেই থাকে...



পাঁচ


দীর্ঘ গরমে ক্লান্ত হয় না এ পরিব্রাজন

আমি ঘড়া ঘড়া ফলস্বাদ জমিয়েছি প্রাঙ্গনে

ভুলে যেতে চাও যদি আভূমি মুকুল বিকেল

বরফকুচি সন্ধ্যে স্নান, পাটি কথা

বৈশাখে ঘন হয়ে থাকা সেদিনের সূর্য গ্রহন

তবে জানা আছে এসব একার ছিল না কখনো 

পৃথিবী সেজেছে গুচ্ছ কথায়

ঘরের মেঝেতে ধানক্ষেত ডুবে আছে, আলপথ মেয়ে আমি

ধুলো মাখা পায়ে পৃথিবীর সব শ্রমবালিকারা

হেঁটে যাচ্ছে যে শস্যপথে

এখানেই মিশে আছে আমার অহং গ্রীষ্ম ...




ছয় 

ভেবেছিলাম  নিজস্ব ট্রেনটিকে নিয়ে

আজ সন্ধ্যায় গরম মাখবো গায়ে

আস্তে আস্তে তাওয়ায় ফুটবে ফুলবন 

রাতের রুটি হাওয়ায় মুখভার করতেই থাকবে

বড়ো অবাধ্য এই দিন মেখে আসা ট্রেনটি 

 এক গার্ডহীন পাহাড়ী  স্টেশনের বারান্দায় থেমে গেলো 

আমাকে না মেনে চলতেই তার আনন্দ 

হাজার বছরের অভ্যাস আমি তার 

ট্রেনটির শরীরে ছড়িয়ে রয়েছি চটচটে বকুলগন্ধ 

হয়ে 

আমার মেঘে মেঘে তার স্নান! ....দম আটকে আসে যে

পুরোনো হয়ে যাওয়া এইসব বৈশাখী মেয়েদের 

কথা বয়ে নিয়ে গেছে  জৈষ্ঠের শেষ ডাকঘর 

খনিজ গন্ধ মেখে তারা মাটির ফাটলে চুঁইয়ে দেবে লেবু স্নান

গ্রীষ্ম যে কত সুন্দর তা জানে শুধু কৃষকের মেয়ে 

লেবুগন্ধের সোনালী ভাতে খুঁজে পাবে সে তার সব ভীড়ে ঠাসা কামরা ...



সাত

ন্যাশনাল হাইওয়ের পাশে দাঁড়ানো একটি ধূসর ট্রাক গা থেকে ঝরে যাচ্ছে খেয়ালী  গ্রামের কিশোর সন্ধ্যা । 

ট্রাক বোঝাই বাঁশী, 

ট্রাকের ড্রাইভারের ঝুলন্ত গোঁফে রাজকীয় অন্ধকার, 

চোখ মেলে তাকিয়ে এক জাতিস্বর জনপদ

তারা সবাই সুর ভুলে যাওয়া গতজন্মের বংশীযুবক

আসন্ন খরায় তাদের ঠোঁটে জেগে উঠবে গ্রীষ্মসুর বিক্রি হয়ে যাবে একটি ...একটি... বাঁশি 

নির্বিকার  হাইওয়ের ধূসর ট্রাক চলে যাবে 

হাজার হাজার বাঁশী নিয়ে তাকে পেতে হবে

আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট 

আরো ...আরো জন্মান্তর মনে রাখা শহর

সেইসব শহরের রূপময় যুবকদের ঠোঁটে মুছে গেছে মেয়েরাত্রি

বাঁশির ফুটোতে ভিজে থাকা অন্ধকারে বালি নূপুর 

 যেন ভীড় করে আসছে হাজার হাজার  মিছিলের পা, জলযুদ্ধের রাসায়নিক ছাই...



আট

গভীর দুঃসময়ে ষ্টেশনের দিকে চলে যাওয়া

রাস্তার দুপাশে বেড়ে ওঠে সুখগাছ

শিস্ দেয় লালপাখি

বিষাদের গোকুল সন্ধ্যা কেটে কেটে যায়

ষ্টেশন চত্বরে খবরের কাগজ বিক্রি করে

এক আরণ্যক মানুষ

তার ঝোলায় গাছেদের ডাইরী

অন্তর্মুখী আর যাপিত হরফের  মেয়েরা  

সুখগাছের ছালে লিখে গেছে তাদের নক্ষত্রসময়,

ছাল খসাবার কালে

গাছ শুষে নিয়েছে সেইসব শুকনো ব্যথা ঠাসা মুকুলে,  ফলের জমিনে 

লেখা হবে শুধু সুখযাপনের পিচ্ছিল প্রবাল কথা ...



নয়

ধূ ধূ ডুবন্ত ফসলের মাঠের পাশে

একলা এক চায়ের দোকান

মনে হয় পৃথিবীর বাইরে এক ঘর

এক এলিয়েন ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঢেলে দিচ্ছে কসমিক রে 

কাপের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে তেঁতো তামাটে বিস্ফোরণ 

গ্রহান্তরের  হিসেব রাখছে তার কটা চোখের বউ 

ভেসে ভেসে আসছে সবুজ ছেলেমেয়েরা 

হাত জোড়া সোনার মতো ভুট্টো সেদ্ধ 

কাপ কাপ চা ঢালতে থাকে ক্ষয়াটে এলিয়েন ...

কাছাকাছি পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত নেমে আসার আগে

তাকে কিছু টাকা পেতেই হবে 

কিনতে হবে ঝড়ো আবেগ, বরফ মিথ্যে 

আর জমাতে হবে জলছাপ মোহর কেবল নিজের জন্য ...



দশ


বসন্তের চলনে একটিই রাগ...পরকীয়া

মুহূর্ত ধুয়ে, নুয়ে জলপান

ধুলো গেলা, শ্লেষ ঢেলে ঢেলে স্নান

এ তোমার ইচ্ছে লোপাট, বেনামে নিজেকে খোঁজা, কালবৈশাখী তে তোমার  বড়ো ভয় ...


এগারো

তুমি ভাবো এ তোমার বৈরাগ্য, বিষাদ হীনতা

ছবির পাহাড়ে এ তোমার আকুল মিথ্যে

দগ্ধ দিনে মাঠের শেষে যে কুটির

তার আশপাশের সব জল শুকিয়ে আছে

এক নবীন কন্যা আসছে ধীরে...ধীরে

তার অবাধ চরণ মেঘলালিত 

বৈরাগ্য ধোবে না সে

নিরন্তর স্বপ্নবাহিত হয়ে... হয়ে 

তার হৃদয় আজ অলকানন্দা ...


বারো

দীর্ঘ হয়ে জ্বলতে থাকা এক গ্রীষ্মতরুণী

ক্লান্ত হওয়ার জন্য এ জন্ম তার ছিল না

পিচের রাস্তায় বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে

পড়ে  খই ঘাম

অসময়ের  পদাবলীই তার অভ্যাস

এতটাই ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে তার যাপন

দূর, বহুদূর পর্যন্ত ফুটে নেই একটিও শান্ত, লঘু ঝড়...


তের

বৈশাখ কে পরিতৃপ্ত করে গেছে
মিথ্যে, স্থায়ী নিতান্তই ভেষজ এক বসন্তবাঁধ 

জলাধারে এতো জল! 
ডুবে যায় অনুরাগী জমিন 

একটুখানি, আধচরণ বেলীগন্ধ
দূষনের মতো শিরায় এঁকে দিয়েছে
নিরাভরণ আকাশ, গোত্রহীন মেঘবালিকার শন চুল

এখন আর একটুও সময় নেই
বিদ্যুত পরিবাহী সব তার ছিঁড়ে আছে সদ্য কালবৈশাখীতে ...

থাক, থাক এই অন্ধকার 
অন্ধকারে কতদিন দেখিনি দুজন দুজনকে ...



চৌদ্দ

বৈশাখ নিজেকে ভাবে সম্রাটের মতো
মনে করে এই গন্ধদহন, উষ্ণ কাঁচা শাল্মলী

এই রঙ পুড়ে যাওয়া ক্লান্ত চোখ, কেবলি তার 
শাণিত অধিকার তবে থাক তোমারি রাজা ! 
আমি তো বহনে, গহনে ছুঁয়ে থাকা গ্রীষ্ম রাত...
ভাবতে পারো দেবী !  সূর্যমন্দিরে আজন্ম সহবাস
জেনে নিও, মেনে নিও, 
শুধু কবিতার জন্য এই গমনাগমন...



পনেরো


বের হও,  বের হও

এই শরীর সরোবর ছেড়ে

হংসপ্রলাপ, অবগুণ্ঠিত কারণবারি
ছাড়ো ছাড়ো সবই ...
রোদ আর রোদ 
রোদে ঝলসে নাও গতজন্মের ঋতু...ঋতুক্ষরণ...



ষোল


সুমঙ্গলী গ্রীষ্ম...

পাখিরা বলে গেছে এখন অপেক্ষা শেষ 

খরে ছাওয়া মৃদু ঘরে ডিমের বেঁচে থাকা ফুরিয়ে গেছে

চুপ করে আছে ব্রতকথা, 

হাট থেকে ফিরে আসা বটফল

গ্রীষ্ম  দিয়েছে  উপবাসের সুখ

 জামের রঙে ভিজে থাকা পার্বণের ছল, টানা দুপুর ...



 সতেরো

মিশ্র  গ্রীষ্ম এবারের মতো 
ধনুক রূপ আর তোমার দেখিনি 
দ্রিমি দ্রিমি মাদল বাজালে 
ঘুমিয়ে গেলাম আমি 

উড়ে উড়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে
বাতাসের টুকরো গছিয়ে দিলে লবনের পুতুলে 
আর্দ্রতা আর জমে না কোথাও 
গ্রীষ্ম রাত  শুধু  একটি কাটাকুটি ভরা নোটবুক...



আঠারো 


এক এক করে জমবে ঘামফসল
সব রোদজ্বলা দুপুর তার সহজ যাত্রী

আমি তাদের সঙ্গী নই
আমার আয়নায় জলছোঁয়া মেয়ে রোদ 

বিচূর্ণ ফুলসম্ভারে সাধিকা যাপন 
উষ্ণতা ভিজিয়ে দেবে ওষ্ঠ কথকতা 
প্রিয় চা গন্ধে ডুবে থাকা নতুন সময়ে 

একটি উদাসীন  মাল্যগ্রন্থি ...

যে  নরম পলির মতো রঙ্ বসন্ত ফেলে গেছে
চিনে নেই, ছুঁয়ে দেখি
তুলে রাখবো ধুয়ে, শুকিয়ে...
গহন গভীর গ্রীষ্মে...


ঊনিশ

নিভে যাওয়ার শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তুমি জ্বলতে চাও

আমি নিভে যাওয়ার একটু আগে সরে যাই 

কিছু দহন জ্বলতে থাক, জ্বলতেই থাক ...

অশ্রান্ত গ্রীষ্ম এভাবেই তুমি আমার ...


দু বিন্দু শাপগ্রস্থতা, কবিতা গদ্য

চিরশ্রী দেবনাথ

দু বিন্দু শাপগ্রস্থতা

কাল রাতে ঘুমোবার সময় সাত আটটা লাইন লিখেছিলাম, ঐ যাকে আমি কবিতা বলি, সেভ করে ঘুমিয়ে গেলাম। সকাল বেলা যখন মোবাইল খুললাম, প্রথমেই হাত গেল সেই কচি কচি সদ্যজাত কয়েকটি লাইনের ওপর। প্রথমে একটি শব্দ বদলে দিলাম, তারপর আরেকটি, তারপর একটি লাইন, দুটো লাইন, তিনটে লাইন, আধঘন্টার মধ্যে সবকিছু বদলে গেলো। গতরাতের একটি অক্ষরও না। এখন যেটা হলো সেটা কি নির্মান। এইসমস্ত পংক্তি কি সত্যিই আমার, না কাল রাতে যেগুলো লিখেছিলাম সেগুলো আমার ছিল। এই বহতা দিনটি কি আমার?  না পেরিয়ে আসা সেই নির্জন অন্ধকারতম দীঘির ঘাটটি । কোনটি?
মনে হলো বিনির্মিত হয়ে যা এসেছে সেটাই সুন্দর। কিন্তু বন্যতা নেই।
কবিতা তো ঐ বন্য হরিণশিশুটি যে এক ফুট দূরে বসে ঝকঝকে ডোরা কাটা লাল হলুদ ব্যাঘ্রশিশুটিকে পরম কৌতূহলে দেখতে থাকে। বাঘের বাচ্চাটিও কাছে আসে, হরিণবালিকাটিও। আচমকা বিদ্যুৎ পতন হয়, দুজনে বড় হয়ে যায় এক মুহূর্তেই। হরিণ দৌড়ে পালায়, সামনে ঝর্ণা, ঝর্ণা পেরিয়ে পাহাড়, সেখানেই  তার বাড়ি, ফলের গাছ, অজস্র ছাতিম ফুল। ব্যাঘ্রশিশুটির সঙ্গে আর তার সারা জীবনেও দেখা হয় না। বাঘ বড়ো হয়, শিকার করা শেখে। হরিণের মাংস খুব প্রিয় তার। টক টক, গরম, নরম।
খাওয়ার পর হুংকার দেয়, হুংকারে জঙ্গল কেঁপে ওঠে। চোরা শিকারীর দল বন্দুক হাতে ছুটে আসে। তারপর কি হয়?

নাহ্ কবিতায় আর বলতে নেই। জন্ম, দহন, কাম, ক্ষুধা, মৃত্যুভয়। ব্যস্ এতটুকুই। কামড়ে ধরো কবিতার নরম চাদর।
জন্ম হোক তরুণতর কবির। সে আর কোনদিন খালি চোখে একা একা ঝড়, চাঁদ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, নারী, পুরুষ দেখবে না। সবকিছু দেখবে অক্ষরের চোখ দিয়ে। ঘোরের মত ।  পদাবলী গায়কের মতো। তার অন্তরে থাকবে গোপীভাব। পেশীতে যাবতীয় অন্যায়ের প্রতিবাদ না করতে পারার ব্যর্থতা। চাটুকারিতার অন্তর্দহ। আলোকিত মঞ্চ ছেয়ে থাকা দুধঘাস, শারদসংখ্যা, বইমেলার অজস্র চোখে ঈর্ষা দেখতে চাওয়ার ব্যাকুলতা।
তরুণ কবি যাকে দেখতে ভালো লাগে  তাকে দেখে না, জলধারা পতন দেখে।
বৃক্ষ ফুলশোভিত হওয়ার মধুক্ষণ দেখে, শিশিরের মতন যে জীবন, কবিতার স্পর্শে আগুনের মতো জ্বলতে থাকে।
তখন ভেতর থেকে বলি আগুন নিভে যাক।
সংসারী হও। সুন্দর করে রান্না করো। নুন, হলুদ, লঙ্কা, তেল ঠিকঠাক। মুখের ভেতরের স্বাদকোরকগুলো বিস্ফারিত হোক। কবিতা গলা  থেকে , আঙুলের ডগা থেকে নেমে যাক, দুফোঁটা শান্তির জীবন দাও এই বেজন্মা আত্মাকে। ঘুমোতে দাও। ঘুমের ঘোরে বারান্দার রেলিং ভেঙে একান্ত অমাবস্যার এই আনাগোনা বন্ধ  হোক। চুরমার হোক চরাচরের বিষণ্ণতা। রাতের পাখিরা ঘর খুঁজে নিক।
মায়ের মৃত্যুর পর একবার ঊনকোটি গিয়েছিলাম, কয়েকবার দেখা ক্ষীণ ঝর্ণাধারা, নীচে সীতাকুণ্ড। সীতাকুন্ডের জলকে একটু ছুঁয়ে দেখলাম, ঝট করে মনে হল মায়ের মৃতহাত, ঠান্ডা। বহুদিন ঊনকোটি নিয়ে কিছু লাইন লেখার চেষ্টা করেছি। অনেকবার দেখা জিনিসকে নিয়ে কিছু লেখা যায় না।
আবছা করে আঘাত দিয়ে যায় যে মানুষ, যে বন্ধু, যে প্রেম, যে নদীর শরীর, দ্রুত চলে যাওয়া কোন স্টেশনের সাইনবোর্ড, এক ঝলকের জন্য দেখা কুটির প্রাঙ্গনে দড়িতে ঝোলানো হলুদ শাড়িটি অনেক বেশী কবিতাসূত্র দেয়।
যার কাঁধে মাথা, যার সঙ্গে মিশে আছি দিনরাত, কবিতা তাকে ভয় পায়।
চুপি চুপি ডাকে। বলে বাইরে আয়। বিরহী জোনাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে আলো জ্বেলে, কি অভিশাপ তার বয়ে বেড়াতে হয় সারাজীবন দেখলি, তারপর আরো কাছে আসে, ফিসফিস করে বলে দেখ্,

"মাইমুখ তলে রাসবালিকা, রত্নবিধুরা পলয় গোধূলি
রাজনিয়ম তুলহ কন্যা, কন্ঠে এনে বলিছ  আজো
মানি নি, মানি নি, মানবো না ।”

বলে , আত্মগত হও।
অজস্র কবিতার টুকরো মাথায় ঘুরতে থাকে। এইসব টুকরোগুলো বিখ্যাত। তারা বাংলাকবিতার রূপক, পরিচয়, বাহক। ঐ মুহূর্তটি কেমন ছিল, যখন কবি সেইসব পংক্তিমালা লিখতে পেরেছিলেন। আকাশে কি তখন এক হাজার শঙ্খচিল উড়েছিল, পৃথিবী কি সন্ধ্যা নামার আগে চুপ করে দুদন্ড  সময় দিয়েছিলেন কবিকে, নদীর বুকে কি ঠিক সেইসময় সারি সারি নৌকা যাচ্ছিল রূপকথার দেশে। যাদের সাদা সাদা পালগুলো বাতাসে এমনভাবে ফুলে উঠেছিল যে মনে হচ্ছিল গর্ভবতী অহংকারী নারীর দল !
এই অপরূপ প্রকৃতি তখন কবিকে বলছিল নিত্য প্রসবিনী হও …

আমি বসে আছি, কাণের পাশের চুল সরাচ্ছি, টেবিলের ওপর পেপার ওয়েট দিয়ে চাপা আছে সাদা কাগজ। হাত চালালেই হলুদ অসুখে ভরা অক্ষর নেমে আসবে। নেড়েচেড়ে ভাবি স্কেচ আঁকবো অনুভবের। জটিল বাঁকানো শরীরের রেখা বলে দেবে ধুলো উড়েছিল। অবিশ্বাসী চোখ না দেখে বুনে গেছে পোকামাকড়ের বাসভূমি ।

কবিতা হয়তো এভাবেই আসে ধুলো উড়িয়ে, গোধূলিআক্রান্ত জাহ্নবীর রঙ মেখে, বড়ো শুদ্ধ সে, মন থেকে সোনা বের করে আনে।

এরকমই হঠাৎ খুব  পরিচিত ঊণকোটির ভাস্কর্যের কাছে এসে মনে হল,

"ঊণকোটিকে নিয়ে বেশী কিছু বলতে পারি না,
এ ভূমি শিল্পীর খেয়ালে রচিত, রাজাদেশে নয়। "

তারপর আমার দিকে ছুটে আসে দিগন্তরেখা, বলে পৃথিবীর শেষ এখানে, কি চাও বলো,  স্বর্গ, সুখ অনন্ত, তৃষ্ণা নেই!

দুহাতে ঠেলে ঠেলে দিগন্তরেখা সরিয়ে দিই। আবার স্পষ্ট হয় কাদাজল, ধানক্ষেত, কচুপাতা, লাউডগা সাপ, নেরী কুকুর, পলা পরা রোগা হাত, এই হাতটি কবিতার,  হাতটি সেই মেয়ের যে কোনদিন চিবুকে জ্যোৎস্না গুছিয়ে রাখতে শেখেনি।
ভেঙে ভেঙে  মহাজাগতিক কণা হতে চায়। তারপর  ঘনীভূতকরণ, সঠিক বিক্রিয়ায় তার চাই বিস্ফোরণের নির্ভুল ক্ষমতা।
তারপর হাসি আসে। সত্যিই কি কবিতা লিখতে এতো কিছু লাগে ! একটি আসা এবং ফিরে যাওয়ার মধ্যেই তো এককোটি কবিতা। যা এখনো লিখে শেষ করতে পারেনি পৃথিবীর কোন কবি।

আবার আজ সকালের ঘটনায় আসি,  খুব চেষ্টা করলাম, যাকে বলে মেধাবী এবং সিরিয়াস চেষ্টা।
কিন্তু কাল রাতে লেখা  মুছে যাওয়া সেইসব লাইনগুলোকে মনে করতে পারি না। অথচ তারা অশ্বারোহী। মালভূমির পর মালভূমি পেরিয়ে যাচ্ছে। সরাইখানা, লাস্যমন্ডপ, ভগবানের দুয়ার কোথাও থামছে না। ভেতরের কবি যেদিন মরবে সেদিন লাফাতে লাফাতে আমার আগে তারা চিতায় উঠবে।
আমি দাঁড়িয়ে থাকবো আকাশের দিকে তাকিয়ে। হেমন্তের গৃহমুখী শেষ বৃষ্টিপাতের জন্য। দু ফোঁটা জল ঠোঁটে পরবে। অভিশাপ শেষ হবে আমার। কবিতাগ্রস্থতার অভিশাপ।
খেয়ে নিয়েছে জীবন বাকি, পুননির্মানের ঘরে মুঠো মুঠো বালি দিয়েছে। দশ মিনিটে ধসে গেছে একটি পর একটি ঘর।

নববর্ষের কবিতা

চিরশ্রী দেবনাথ 

নববর্ষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ 

এসেছে নববর্ষ অর্ণবমেঘে, এই পৃথিবীতে আবার

যারা চলে গেছে, অকালে অঝোরে ঋতুচিহ্ন নিয়ে

সকল নৃশংসতা,  বিষ ও আগুনের মতো হৃদয়ে ধারন করে

ক্ষমা করো তোমরা এই পৃথিবীরে,  সদ্যজাত বঙ্গাব্দকে    

আসতে হয় ক্ষীণ ধর্মবোধ আর শ্বেতপ্রদাহ নিয়ে নিয়ম করে

তাই আসা, তাই আসা, তপ্ত অসীম কালবৈশাখীর সাথে 

মধ্যরাতে পিচ ঢালা রাস্তায় ঐ  নীলাভ হিমকর ধরাচ্ছে নেশা

কাচের আলো দুপাশের বাড়ি থেকে পড়ছে ভেঙেচুরে বুঁদ হয়ে  জল ছিটকে চলে যাচ্ছে গাড়ি, নির্জনতা পছন্দ করেনি সে 

তরুণ ড্রাইভার বন্দিশের ঠিকানা বদলাচ্ছে বার বার

তাই দেখে ফ্রক পরা কিশোরী পুনর্বার নেমেছে বর্ষবরণে

দুহাতের খই ভরা ডালায় তার বারোটি মাস রাখা সুঘ্রাণে

কাঁচা কাঁঠালের আসক্তি কষ লেগে যাচ্ছে হাতে ও স্পর্শে

মথুরা শহর যেমন করে পারে না ভুলতে দূর বৃন্দগ্রামকে

আজকাল নির্বাচনী প্রচারের পর যুবকের দল ফিরে যায়

সঙ্গে কি থাকে, কি লাভ , কি হয় আসলে, তবুও অমোঘ নেশা, 

সমুদ্র দ্বীপ যেমন করে দার্ঢ্য থাকে ঢেউয়ের একান্ত রিরংসায়,  

অশ্রু ও রক্ত ভুলে গনতন্ত্র ধরতে চায় কেবল এক প্রত্যয়ী হাত ;

 শ্লোগান মিথ্যা হয়, প্রতিশ্রুতিও, তবুও দেশ বলে

জাগিয়ে রাখো ; জেগে থাকো ; হাজার অন্ধকার আলোরই মতন অবশেষে, পথ শেষে ; তাই এই নববর্ষ মায়াময়, রোদময় ;

বৈশাখে জন্ম নেওয়া পাখি শিস্ দিতে শিখেছে আজই, খিস্তিও ;

তার শিশুকাল নিস্তব্ধতা শেখেনি, অচিরেই আছড়ে পড়েছে যৌবন ; প্লাবন তাই সমকালে, আগামীতে উর্বরা পলি, সতন্ত্র শস্যক্ষেত্র। 





 

কন্ঠীবদল


শ্যামলীরাই বোষ্টমী। জেলা উত্তর ত্রিপুরা। গ্রাম "পলাশকুঞ্জ "।

সাড়ে কুড়ি বছরে কন্ঠীবদল।

তখন ফাগুনমাস। বেহায়া বাতাস। দুজোড়া ধুতি চাদর।

পলাশফুল পড়ে পড়ে পিছল হয়ে থাকে আখড়ার প্রাঙ্গন।

তিলক মুছে তিনবার মাছ খাওয়া হয়েছে।

দুবার মুরগীর ঝোল। তিনখানা হিন্দি ফিল্ম। নাচ গান।

এটুকুই অবৈধ বসন্ত। বাকি সব কীর্তন। সপ্তমীর জ্যোৎস্না।

শিউলি, কাঞ্চন, রঙহীন জবা তুলে তুলে নারায়ণের চরণে।

দোলের দিন সবুজ রঙ, গোলাপী আবির, সঙ্গীর পুরাতন মুখে 

ভিক্ষাকষ্ট  শুধু। 

পুন্যের মাস। কার্তিকের কুয়াশা মেখে মেখে শহরের অলিগলি ঘোরা হয়। 

একজন মরল, দ্বিতীয়জনের লগে কন্ঠীবদল। 

শ্যামলীরাই 

হাসে না। নামগান করে। 

তৃতীয়জন এলেই বা কি। বয়স তার এখন সাঁইত্রিশ। 

ভরা হাতে মাছ কাটতে ইচ্ছা হয়। রক্ত ধুয়ে তেলে হলুদে জমিয়ে গন্ধ ছাড়তে ইচ্ছা হয়।

না হয় সন্ধ্যাবেলা একটু তুলসীতলা। বাকি মাছভাত আর রমণ।

সে হবার জো নেই।

 অথচ ভক্তি নেই। 

ঘোর সংসার বুকের ভেতর। 

ঘরবাড়ি উঠোন চুলা আর পুকুরঘাট সমেত।

গাছভর্তি আমের বোল। কষা মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ফাগুন চৈত্র মাসে, আর পুকুরের জলে গা ধুতে ধুতে লাক্স সাবানের ফেনায় ফেনায় ধুয়ে যাচ্ছে বোষ্টমী রঙ। 

তিলকের মারপ্যাঁচ,  তুলসীমালার বৈরাগ্য।

ট্রেনে কইরা আসাম যাওয়ার সময় দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা।

ভরা যৌবন।

 বিবাহের রঙ নাই কপালে। কিন্তু বোঝা যায় মাংস ছুঁয়েছে তারা। কই কন্ঠীবদল তো হয় নাই।

জীবন্ত স্বাধীন। শ্যামলীরাই কীর্তনের সুর তোলে। দশটাকা, দশটাকা দেয় দুজনে।

কয় আশীর্বাদ করো যেন  আজ রোজগার হয়, আমরাও বোষ্টমী, ঘর আছে,  ঘর নাই। বাইরে বেরুলেই  টাকা।

বাড়ি ফিরলে জিগায় টাকা আনছো নি?

তবুও তোমাদের  তো ভণিতা নাই, শ্যামলীরাই তর্ক করে।

হি হি ! ভণিতা ! ছুরির মতো হাসি। নাহ্ ভণিতা নাই, রঙখেলার দিন কৃষ্ণ আসে খেলতে।

তার চোখে দেখা যায় এই  বসন্তকাল।

গোপী মেয়েদের ব্যথা।

কত কত রঙ নিয়ে আমরা পদাবলী লিখে যাই।

`মানুষ ভুল করে ভাবে ধর্মের গান, অথচ এসব

আসলে নাড়ি ছেঁড়া অশৌচ কাল। 





বিশ্ব কবিতা দিবসে


কেন যাবো কবিতার কাছে

পৃথিবীর কিছু মানুষ কবিতা লেখে কারণ পৃথিবীর বাকি মানুষ কবিতা লেখে না। তবে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই কখনো কখনো কবিতা শুনেছে, বলেছে বা পড়েছে।
একটি অটোর পেছনে দেখলাম লেখা আছে,
“আবার আসিব ফিরে মনুনদীর তীরে “ এই অটোচালক খুব রসিক। সে কোন এককালে জীবনানন্দ পড়েছিল, তার অন্তঃস্থলে লেগে আছে লাইনটি, “আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে “, একটু খানি নকলই তো করেছে মাত্র। এই নকলটি সহস্রাধিক বার যেন হয়। কবিতা তুমি সেই যুবকের নারী হয়ে থাকো।  

আবার নেট ঘাটতে গিয়ে একটি প্রবন্ধ পেলাম তাতে আছে,
চিলির সান্তিয়াগো শহরের রাস্তায় একটি ছোট ছেলে কবিতা বলতে বলতে তরমুজ বিক্রি করছিল, এখন একজন ভ্রমণকারী ও পাবলো নেরুদার কবিতার অনুরাগী, যে কিনা ওনার কবিতা অনুবাদ করতে চায়, এই লাইনগুলো শুনে  সে আরো কাছে গেলো, তরমুজ কিনলো, আরো দু একবার কবিতাটি শুনল। অবশেষে সেই অনুবাদক যখন পাবলো নেরুদার কবিতা অনুবাদ করতে যান তখন আবিস্কার করেন এই দুটো লাইন পাবলো নেরুদার, "ওড "কবিতা থেকে নেওয়া। কিভাবে যেন  লাইনগুলো ঢুকে গিয়েছিল ছেলেটির বিক্রিবাটায়।

কবিতার সবচেয়ে নিজস্ব গুণটি হলো কবিতা একইসঙ্গে ভীষণ মহৎ, দুর্দান্ত ধ্রুপদী, কবিতা পড়ার আগে নিজেকে সব দিক থেকে প্রস্তুত করে আস্তে আস্তে চিক্কন আলোর মতো ঢুকে যেতে হবে এই আভিজাত্যে।  আবার একই সঙ্গে কবিতা মাঠে পরে থাকা পাখির পালক, করুণ চোখে চেয়ে আছে পৃথিবীর যাবতীয় ধূসরতা নিয়ে।

কবিতা সেই মাদক, যে সব আভিজাত্যকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলে,

"তুমি আমায় অবজ্ঞাতে উড়িয়ে  দিলে,
ফুউউউ ...
তবুও শালা হতচ্ছাড়া  কোকিল ডাকে কুউউউ "
....কবি সালেহীন শিপ্রা ( বাংলাদেশ)।

কবিতা কবির চিরকালীন কলঙ্করচিত  কল্পনা, দ্বিতীয় নারী বা পুরুষ যার সঙ্গে সহাবস্থান কেবল অভিমান আর মিলনের।
কবিতা কি কেউ পড়ে এখন, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন?
পাঠ্যপুস্তকের বাইরে "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ "কিংবা "বিদ্রোহী "কিংবা "মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় "ইত্যাদি ইত্যাদি, যেহেতু বাচ্চারা আবৃত্তিশিল্পের চর্চা করছেন তাই অভিভাবকদের কানে পৌঁছে যাচ্ছে জবরদস্তি করেই। আবৃত্তি শিখতে আসা  শিশু বা কিশোর কিশোরীদের কাছে এইসব কবিতা একটি বোধের সূচনা ঘটায় মনে। পরবর্তীতে তার কবিতাপ্রেম, কবিতাকে চেনা, কবিতাকে ভালোবাসা কিরকম হবে তা নির্ভর করে ছেলে বা মেয়েটির চেতনা এবং মনোজগতের উন্নতির ওপর।
কবির মনোজগত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অলৌকিক জায়গা। এখানে তিনি সমস্ত দুর্বোধ্যতা নিয়ে বসে থাকেন। এই আঁধারের ধার নেই, দান আছে, এক কবি থেকে অন্য কবিতে, এজন্যই কবিতা সংক্রামক এবং না সারাইযোগ্য ব্যাধি।

"কিছু লোক
তার মানে সবাই নয়,
এমন কী অধিকাংশও নয়, সামান্য কয়েকজন,
স্কুল পড়ুয়া ছাড়া, তারা পড়তে বাধ্য হয়,
আর কবিরা ছাড়া,
তুমি যদি গোনো হয়তো এক হাজারে দু জন।
..................
কবিতা
যা হোক কিন্তু কবিতা কী?
অনেক উত্তর
প্রথম দিনের প্রশ্নটির পর থেকে,
কিন্তু সে সব আমি না জেনেই থাকি, আঁকড়ে থাকি  তাকে
সিঁড়ির রেলিঙের অবলম্বনের মতো। "

এই কবিতাটি লিখেছেন ভিসলাওয়া সিমব্রসকা, পোল্যান্ডের কবি, ১৯৯৬ সালে তিনি সাহিত্যে  নোবেল পুরস্কার পান। উপরে উদ্ধৃত অংশটি অমিতাভ চৌধুরী কৃত অনুবাদ থেকে নেওয়া।
এটা তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কবিতা নয়। পৃথিবীতে আরো বহু সুন্দর কবিতা লিখিত হয়েছে। আমার কাছে আকর্ষণীয় কবিতায় উল্লিখিত ঐ রেলিঙটি। অবলম্বন। বেঁচে থাকার অবলম্বন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের পর কবিতা একটি বেঁচে থাকার উৎস হতে পারে, যার কিনারায় দাঁড়িয়ে কবি নীচের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর তার চোখ থেকে এক ঝলক
‘বেঁচে থাকা ‘  প্রবাহিত হয় বহু দূর অব্দি।

কেনেডি এবং চার্চিল দুজনেই বলেছেন, "পোয়েট্রি ক্লিনস, পলিটিক্স পল্যুটেড  "।
অথচ কবিতা এবং রাজনীতি একজন আরেকজনকে জড়িয়ে আছে খুব বেশী করে। কোনদিনই হাজার হাজার মানুষ কবিতা পড়ে না, একটি সীমাবদ্ধ বিশেষ বোধসম্পন্ন মানুষের কাছে কবিতা চর্চিত হয় তার যাবতীয় মায়াকুশলতা, সৌন্দর্য আর মেধাবী লাইন নিয়ে, কিন্তু এই কবিতাই পৌঁছে গেছে এক লহমায় হাজার হাজার মানুষের কাছে যখন যুদ্ধ,  রাজনীতি আর মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে কবিতা।
১৯৭১, বাংলাদেশ যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষরা দিনের মধ্য দিয়ে। চলছে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা। অ্যালেন গিন্সবার্গ  কলকাতায় এলেন, সুনীল গাঙ্গুলীর বাসায়, তাঁকে নিয়েই দেখলেন যশোর রোডে নেমে আসা উদ্বাস্তুদের ঢল, বন্যা, ঘর বাড়ি দেশ হারানো মানুষ। পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত, সবচাইতে প্রভাব বিস্তার করা সমকালীন এবং চিরকালীন একটি কবিতা রচিত হয়েছিল তখনই, "সেপ্টেম্বর ওন যশোর রোড "। এই কবিতায় সুরারোপ হলো, গাইলেন আর এক জগত কাঁপিয়ে দেওয়া গায়ক বব ডিলান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে যে কনসার্ট হয় তাতে রবি শঙ্কর থেকে শুরু করে ছিলেন আরো বহু শিল্পী,  অর্থ সংগৃহীত হয়েছিল ঠিকই, তবে তার চাইতেই যা বেশী পাওয়া গেলো তা হলো কবিতা আর গানের মাধ্যমে, “সেপ্টেম্বর ওন যশোর রোড “ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পৌঁছে দিয়েছিল বিশ্বের দরবারে আরো বেশী করে এবং আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে পেরেছিল একটি স্বাধীনতাকামী দেশের হৃদয়কে। কবিতা সবকিছুকে ছাপিয়ে এইভাবেই সময়ের ভাষ্য হয়ে ওঠে বার বার বহুবার।

কবিতাটির একটি অংশ,

"শত শত চোখ আকাশটা দেখে, শত শত শত মানুষের দল,
যশোর রোডের দুধারে বসত বাঁশের ছাউনি কাদামাটি জল।
কাদামাটি মাখা মানুষের দল, গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
আকাশে বসত মরা ইশ্বর, নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে।
ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর বাড়ী দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান, এই কালোরাত কবে হবে শেষ।
শত শত মুখ হায় একাত্তর যশোর রোড যে কত কথা বলে,
এত মরা মুখ আধমরা পায়ে পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে।
সময় চলেছে রাজপথ ধরে যশোর রোডেতে মানুষ মিছিল,
সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর, গরুগাড়ী কাদা রাস্তা পিছিল
লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে, লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায়,
ঘরহীন ভাসে শত শত লোক লক্ষ জননী পাগলের প্রায়।"

অনেকেই বলবেন এটাই হচ্ছে আসলে মানুষের কবিতা, কত সহজে বোঝা যাচ্ছে লাইনগুলো।  চিন্তাজগতের কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই কবিতার অন্তঃস্থলে ঢোকা যাচ্ছে। কবিতা বলে দিচ্ছে একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা, দুর্দশার কথা। আমার কাছে এই কবিতাটির আসল  রচয়িতা সময়, অ্যালেন গিন্সবার্গ হলেন বিশেষ সময়টিকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার সেই অলৌকিক মাধ্যম ।

একইভাবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, দুর্ভিক্ষ,  স্বাধীনতা উত্তর ভারত, নকশাল আন্দোলন সমস্ত রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিক্ষেপণ রচনা করেছে বহু বহু কবিতা, লোকের কন্ঠে কন্ঠে ফিরেছে, এখনও ধ্বনিত হচ্ছে।
তাহলে বলে দেওয়া যায়, যখনই কোন বিরাট অস্থিরতার সৃষ্টি হবে তখনই আমরা কবিতার কাছে যাবো। সেইদিক দিয়ে দেখতে গেলে ভারত
কিংবা বাংলাদেশ কবিতার উর্বর ক্ষেত্র। সবসময় কিছু না কিছু হয়েই চলেছে। আর এইসব ঘটনাপ্রবাহ কবিতাকে প্রাণ দেয়, জীবন্ত করে তোলে। রিয়ালিজম, ন্যাচারালিজম্,
সুররিয়ালিজম তিন মিলে কবিতাকে আরোও সমৃদ্ধ হবার জনপদ তৈরী করে দেয়।
মানুষের মনোভূমির তিনটি স্তর, ইদ, ইগো ও সুপার ইগো। এই ইদ ( Id) বা অবচেতন মনই সুররিয়ালিজমের উৎসভূমি।

“কেরোসিন, কাঠ, গালা, গুণচট, চামড়ার ঘ্রাণ
ডাইনামোর গুঞ্জনের সাথে মিশে গিয়ে
ধনুকের ছিলা রাখে টান “ ( ‘রাত্রি’, জীবনানন্দ দাশ) ,
সাধারণ মানুষের কাছে সমস্যাটি তৈরী হয়েছে এখানেই, এইসময়ের সবচেয়ে প্রচলিত বিতর্কিত শব্দ ‘জীবনমুখী’ ব্যবহার করবো, বলবো যে জীবনমুখী সহজ কবিতার বিরাট জনপ্রিয়তার পর, হঠাৎ করে গভীরতম বোধের কবিতাগুলো এলেই, কবিতা  জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কারণ পাঠক তৈরী হয়নি।

পাঠক তৈরী করার দায়িত্বও কবির।
একটি বিশাল পাঠকশ্রেণী তৈরী করতে, বাংলা কবিতার বিপুল বৈভব বোঝার বোধ জাগ্রত করতে আরো দীর্ঘ সময় দরকার।
আস্তে আস্তে এই মনোভূমি সবুজ হবে।
খুব স্বাভাবিক ভাবে মানুষ বলে দেয় এইসময়ের কবিতা বুঝি না। এই "বুঝি না " জিনিসটাকে  গুরুত্ব দেওয়ারই দরকার নেই। কবিতা সবসময় দুই ভাষ্যেই রচিত হয়। সরল এবং কঠিন।
মানুষের বোধকে উচ্চতর মাধ্যমে নিয়ে যাওয়াটা কবিতার অন্যতম কাজ।

কবি তার নিজস্ব বোধ বুদ্ধি মেধা দিয়ে কবিতা রচনা করবেন।
আমাদের দায়িত্ব কার্তিকের জ্যোস্নার প্রান্তরে মহীনের ঘোড়াগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়া, প্রস্তর যুগের ঘোড়াগুলো এখনও ঘাসের লোভে চরে কেন, এ সম্পর্কে ভাবা।
পরক্ষণেই বলব
কেন ভাবব, এই চিন্তা ভাবনা আমার দৈনন্দিন জীবনের স্নান, খাওয়া, মৈথুন পেরিয়ে কোন কাজে আসবে?  ভাববো, প্রবলভাবে ভাববো, নাহলে থেমে যেতে হবে।
কবিতা নিয়ে না ভাবলে, কবিতা না লিখলে, কবিতার চর্চা না হলে সাহিত্য থেমে যায়। সময় স্থবির হয়ে যায়। স্থবিরতার কাছে পৌঁছে গেলে মানুষ যেতে থাকে পেছনের দিকে, অন্ধকারের দিকে, কুসংস্কারের দিকে।
যাপনের সব অন্ধকারই কবি বমন করেন,আর তার মাধ্যমেই আলো ফোটে।

“একটি সতেরো বছরের মেয়ের পায়ের তলায়
লুটিয়ে পড়তে পারে না একবার      একবারো তাবৎ সংসার? “ ...কবিতা সিংহ।

কবিতা আসলে সেই সতেরো বছরের মেয়ে, যার গর্ভ শূন্য, সহস্র সন্তান ধারণ করবে বলে উদাসীন জ্ঞানের মতো বসে আছে।

ভীষণ অশুভ আর কুৎসিত থেকে কবিতা তুলে আনে সেই খন্ডচিত্র যা বিশ্বজনীন।
গ্রীষ্মের দুপুরে মৃত কুকুরের দেহ দেখে বোদলেয়ার লিখলেন,

“আর্দ্র নারীর ধরনে শূন্যে পা দুটি তোলা,
    তাপে, ঘামে বিষ কীর্ণ,
লজ্জাবিহীন, উদাসীন ভাবে উদরখোলা,
বিকট বাষ্পে পূর্ণ। “( অনুবাদক : বুদ্ধদেব বসু)  

কুকুরটি এখানে নারীর রূপ। পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে থাকা অজস্র যুদ্ধ ক্লান্ত নারী বললেও কবিতাটি এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

শিল্পকে কোনদিনও আঞ্চলিক দৃষ্টি নিয়ে দেখতে নেই। খুব ক্ষুদ্রভাবে কখনো শিল্প চর্চা হয় না। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃজনসমূহকে যত বেশী স্পর্শ করা যায় তত মানসিক উত্তরণ ঘটে। কবিতার কাছে যাবো, তাহলে আগে যাবো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর কাছে। তবেই এক মুহূর্তে বুঝে যাবো, কেন যেতে হয় কবিতার কাছে।

“শিশুর প্রথম হাসি শুরু হলে
তেতো ও মিঠা ছেড়ে যায় একে অন্যকে,
মহাসাগরীয়, অরাজকতার মধ্যে
খোলা সেই হাসির প্রশান্ত সীমা।

সবকিছু অপরাজেয় সুন্দর তার কাছে
খেলে সে, গরিমা নিয়ে ঠোঁটের কোনায়
বস্তুর অমেয় প্রকৃতিকে জেনে নেবে বলে
ধরে ফেলে রামধনুর প্রান্তের জোড়। “

( ওসিপ মান্দেলস্তামের কবিতা, অনুবাদ অমিতাভ কর)

কবিতা একটি অপরাজেয় শিশু, যাকে আমরা প্রত্যেকেই নিজের ভেতর বহন করে চলেছি। খুব ছোট থেকে ছড়া আমাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে আঘাত করে। এই যে খুব প্রচলিত ছড়াগুলো, কিন্তু ব্যাপক অর্থ নিয়ে বিরাজমান।

“খোকা ঘুমুলো পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেবো কি সে “
পরবর্তীতে শিশুটি বড়ো হয়ে গেলে যদি তাকে ছড়াটির সঠিক অর্থ ধরিয়ে দেওয়া যায়, যা একটি চুরান্ত অরাজক অন্ধকার সময়ের সুচিন্তিত সুলিখিত প্রতিফলন তবে সে ছড়ার প্রেমে পড়তে বাধ্য, সহজেই বুঝে যাবে কবিতা কতটা সর্বগ্রাসী ভাবে আশ্রয় করতে পারে সময়কে।
কিংবা, “ আগডুম বাগডুম ঘোড়া ডুম সাজে “,এখানে “আগডুম বাগডুম “ মানে হচ্ছে, আগে ডোম, পরে ডোম। ডোম, যারা সেইসময় ( এইসময়ও কি?  ) সামাজিক ভাবে অচ্ছ্যুৎ, তারা কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে অচ্ছ্যুৎ ছিল না, আগেও তারা, পরেও তারা। একটি তীব্র সামাজিক বিভাজনতার শিকার সেই জনগোষ্ঠীকে, হয়তো কোন এক ছড়াকার অবচেতন ভাবেই  ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন ছড়ায়।

সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ কিছুদিন আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার জগতে, তিনি আকতার হোসাইনকে দেওয়া  তাঁর একটি স্বাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আত্মগোপন কবির কাজ নয়, আত্মপ্রকাশই কবির কাজ। যদি আপনি ভালো লিখেন, তাহলে আপনি জানান দিন ...আছেন। তিনি আশাবাদী ছিলেন যে এখন একজন বড় কবির আত্মপ্রকাশের সময় ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে, তবে একসঙ্গে যদি সব তরুণই একই ধরনের ভালো লেখেন, তবে কবিতায় পুনঃপৌনিকতার সৃষ্টি হয়, মনে হয় একটি কবিতাই সবাই লিখছেন। তবে এর মধ্য থেকেই কেউ হয়ে উঠবেন ব্যতিক্রমী, আর সেই ব্যতিক্রমী কবিতাকে জানার জন্য আমরা কবিতার কাছে যাবো।

“রাত্রির গান গেয়েছিল এক নারী
আমার সাথেও ছিল কিছু পরিচয়,
এক হাতে রেখে আগুনের মতো শাড়ি
বলেছিল, ভীতু তোমারও কি আছে ভয়? “( আল মাহমুদ )

লাইন চারখানি বার বার পড়ি। কেন পড়ি, তার উত্তরে বলি  তারা সুন্দর।

“পুরুষ পাথর বটে কিন্তু যদি দশটি চুম্বনে
পাষাণ বিদীর্ণ হয়ে ভাস্করের কান্না হয়ে যায়
শিলার কাঠিন্য নিয়ে তবে আর স্বপ্নে জাগরণে
বলো কোন্ নদী আর প্রস্তরের বদনাম গায় “..
( আল মাহমুদ )

পড়লে একটি দৃঢ় নিস্তব্ধতা নেমে আসে তাই কবিতার কাছে যাই চুপ করে থাকার জন্য।
কবিতা আত্মক্ষরণের  মর্মান্তিক কাটাকুটি। প্রতিটি মানুষ সারা জীবন ধরে নিজের মধ্যে একটি দীর্ঘ কবিতা লিখতে থাকেন,
এই কবিতাটিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না, শুধু বলা যায়,

“কী খুঁজে বেড়াচ্ছ তুমি সারাদেশ জুড়ে?
 রুটি, শুধু রুটি।

দিন নেই রাত নেই ঘুম নেই
খোঁজা শুধু খোঁজা

কী খুঁজে বেড়াচ্ছ তুমি সমস্ত জীবন?

ভালোবাসা শুধু।  “ ( ভাস্কর চক্রবর্তী)

এই অমৃত শ্লোকগুলো পড়বার জন্য আমরা কবিতার কাছে যাবো।

বসন্তসময়  চলছে, একটি প্রেমের কবিতা ছুঁয়ে যাই, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পেয়েছি। কবির নাম অনুত্তমা ব্যাণার্জী।

“প্রথমে নাকাল হবো, ধুলোবালি ঢুকে যাবে চোখে
নির্বুদ্ধিতা নিয়ে রসিকতা করে যাবে লোকে
কপালে দু:খ আছে - ইংগিত দেবে ঠারেঠোরে
মান সম্মান সব একে একে খোয়াবো বেঘোরে

শাস্তি ঘোষণা হবে, গর্দান যাবে রাজদ্রোহে
তবে না এসেছো প্রেম!
এসেছো তবে না
সমারোহে…”  

ফেসবুক থেকে আমরা আজকাল প্রাণভরে টেনে নেই এভাবেই কবিতার অক্সিজেন।

আমাদের মনে একটি মাটির উঠোন আছে, টুকরো জ্যোৎস্না, নিমগাছ রচিত ছায়া, তুলসীতলা, শঙ্খ আর আজানের ধ্বনি, সেখানে এক কথকঠাকুর বাস করেন, যিনি দুলে দুলে কৃত্তিবাসী রামায়ণ পড়েন, মেঠো সুরে,

“সূর্য্যবংশে দশরথ হবে নরপতি।
রাবণ বধিতে জন্মিবেন লক্ষ্মীপতি।।
শ্রীরাম লক্ষ্মণ আর ভরত শত্রুঘ্ন।
তিন গর্ভে জন্মিবেন এই চারি জন।।
সীতাদেবী জন্মিবেন জনকের ঘরে।
ধনুর্ভঙ্গ পণে তাঁর বিবাহ তৎপরে।।
পিতার আজ্ঞায় রাম যাইবেন বন।
সঙ্গেতে যাবেন তাঁর জানকী লক্ষ্মণ।।”

আর তা ছড়িয়ে যেতে থাকে আমাদের
রক্তমাংসে ছোট থেকেই।  সেজন্য কোনজীবনই কবিতাহীন নয়।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার শহরের হোটেল গুলোর নাম হোক, “ ডহরের ঘোর “ বা
“গহনের টানে “, রেস্টুরেন্টের নাম হোক
“সাতনরী হার “, লন্ড্রীটির নাম হোক, “রাজহাঁসের পালক “।
হতে পারে না   কবিতায় বসবাস ! কিংবা  কবিতার সঙ্গে বারোমাস?

"প্রকাশিত, "দৈনিক সংবাদ পত্রিকা "ত্রিপুরা

তথ্যসুত্র : বিভিন্ন বই, আন্তর্জাল এবং ফেসবুক